বান্দরবানের থানচি বাজারে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত ৮টা ৪৭ মিনিট থেকে প্রায় ১ ঘণ্টা এই গোলাগুলি চলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানচির উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে বলেন, ‘কার সঙ্গে কার গোলাগুলি এটি নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহত আছে কিনা তাও জানা যায়নি।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, থানচি থানার পাশে প্রথম গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তা থানচি বাজারের কাছে চলে আসে। স্থানীয়দের ধারণা সশস্ত্র গোষ্ঠি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রায় ২ শতাধীক নারী ও পুরুষ পোশাকধারীদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। রাত সাড়ে ৯টার পর গোলাগুলি কমে আসে।
থানচিতে গোলাগুলি শুরু আগে অপহৃত রুমার সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনকে থানচি বাজার থেকে উদ্ধার করে র্যাব। র্যাব–১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে বলেন, ‘রুমা বাজার এলাকা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’
গত মঙ্গলবার রাতে তারাবি নামাজের সময় বান্দরবানের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, ২টি এসএমজি, ৪টি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পর থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়। বুধবার বেলা ১টার পর থানচির সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুই ঘটনার জন্যই কেএনএফকে দায়ী করছে সরকার।
সকালে রুমা ও থানচিতে তিনটি ব্যাংকে হামলা চালিয়ে লুটের ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন,
‘কেন হঠাৎ করে তারা (কেএনএফ) এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমাদের জানা ছিল না। তবে যে উদ্দেশ্যেই তারা এসব করুক না কেন; আমরা তাদের কাউকে ছাড় দেব না। আর এমন কিছু ঘটেনি, যাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। আমরা দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগে সবকিছু জেনে নিচ্ছি, তারপর সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। এর পেছনে কারা আছেন, কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা? কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা অন্য কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, সেগুলো দেখে সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেব।’
আরও পড়ুন: