৫ জেলায় পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ

পানি নামতে শুরু করলেও এখনো কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ৩ পার্বত্য এলাকায় পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ। ডুবে গেছে সড়ক-মহাসড়ক। তিন দিন ধরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে, বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী সড়ক ব্যবহার করছেন চালকরা। এদিকে, বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য এলাকা থেকে নামতে শুরু করেছে পানি। তবে, এখনো তলিয়ে আছে সড়ক-মহাসড়ক ও নিচু এলাকা। বন্যায় চট্টগ্রামে ৭ লাখ, কক্সবাজারে ১ লাখ, বান্দরবানে ২ লাখ, খাগড়াছড়িতে ১০ হাজার আর রাঙামাটিতে আড়াই হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। 

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামুসহ ৬০টি ইউনিয়ন এখনও পানির নিচে। ঘর-বাড়ির পানি না নামায় এখনো আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে পারছেন না দুর্গতরা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকা। 

লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওরঙ্গজেব বুলেট বলেন, ‘সরকারের সাথে বেসরকারি, আন্তর্জাতিক এনজিও যারা আছেন এবং বিত্তবান যারা আছেন, এখানে মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। পথে এসে পড়েছে। অসহায় মানুষের জন্য আমি আকুল আবেদন জানাব সাহায্য করার জন্য।’

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাকি হলেও এখনো তলিয়ে নিচু এলাকা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। এখনো উন্নতি হয়নি রাঙামাটির বন্যা পরিস্থতি। পানিতে তলিয়েছে আড়াই হাজার ঘরবাড়ি।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালি ও বোয়ালখালি ইউনিয়নের ১০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি।কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমাদের বাড়িঘর রাস্তাঘাট সব পানিতে তলিয়েছে। ধান নষ্ট হয়েছে, বাড়িতে পানি উঠেছে। 

নোয়াখালী ও ফেনীতে জোয়ারের পানিতে এখনো তলিয়ে আছে নিম্নাঞ্চল। জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে নদী ভাঙন।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার তিনশ হেক্টর রোপা আমন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ৯৫টি পুকুরের ৩০ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে।