এমপি আজীম হত্যাকাণ্ড: সম্পদ বিক্রি করে দেশ ছাড়েন শাহীন 

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের পরিকল্পনায় অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান শাহীন তাঁর গ্রামে শত কোটি টাকা বিনিয়োগের বাগানবাড়ি আর গরু-ছাগল-হাঁসের বিশাল খামার গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। ৩০ এপ্রিল কলকাতা যাওয়ার আগে প্রায় দুই কোটি টাকায় খামারের সব গরু বিক্রি করেন। আর খুন ও গুমের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ১৬ মে সবছাগলও বিক্রি করে টাকা পাঠাতে বলেন খামার ব্যবস্থাপককে। এর চার দিন পরই তিনি দেশে ছাড়েন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হলে সহায়-সম্পত্তি লুটপাট হতে পারে এমন আশঙ্কায় শাহিন আগেভাগেই এসব উদ্যাগ নেন বলে মত স্থানীয়দের।

এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘুরে ফিরে নাম আসতে থাকে তাঁরই বন্ধু কোটচাঁদপুর পৌরসভা মেয়রের ছোট ভাই আক্তরুজ্জামান শাহিনের। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে ১৩ ই মে। তার আগে ৩০ এপ্রিল ভারতের কলকাতার গিয়ে ভিআইপি রোডের একটি চার তারাকা মানের হোটেলে নয় দিন থেকে হত্যা ও লাশগুমের সব পরিকল্পনা করেন শাহিন।

হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কলকাতায় ছিলেন না এটা প্রমাণ করতে দেশে ফিরে আসেন ১০ মে। এমপি খুন আর গুম নিরাপদে হয়েছে জেনে ১৬ মে খামারবাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ঘনিষ্ঠজন আজিজুল হক মানিককে ফোন করে ১৭০টি দেশি-বিদেশি ছাগলের সবগুলো বিক্রি করে টাকা পাঠাতে বলেন। ভাড়া করা হত্যাকারীদের নগদ টাকা পরিশোধের জন্য শাহীন এটা করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।   

এলাকাঘুরে দেখা গেছে, শাহিন তাঁর গ্রাম কোটচাঁদপুরের এলেঙ্গায় ২৫ একর জমির বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে তোলেন আলিশান বাগানবাড়ি-দেশি বিদেশি গরু ছাগল, রাজহাসের খামার। ছিল আট থেকে ১০ জন নিরাপত্তারক্ষী। সেই বাগান বাড়িতে দামি গাড়িতে লোকজনের নিয়মিত আসা যাওয়া ছিল। আসতেন স্থানীয় এমপি আনোয়ারুলও।  এখন বাগানবাড়িতে কেউ নেই। পাহারায় থাকা ৮টি বিদেশি কুকুরও সরিয়ে নেওয়া হয় গত মাসে। 

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের পরিকল্পনায় অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান শাহীনের বাগানবাড়ি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনস্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই বাগানবাড়িতে ভোর তিনটা পর্যন্ত গান বাজনা হতো এখানে। অনেক দামি দামি গাড়ি আসত এখানে।

এই ঘটনার পর ভয় আর আতংকে কোটচাঁদদপুর ও কালিগঞ্জ থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: