বাল্যবন্ধু নয়, ব্যবসার খাতিরেই ঘনিষ্ঠ এমপি আজীম ও শাহীন 

আক্তারুজ্জামান শাহীন ও এমপি আনোয়ারুল আজীমের বাল্যবন্ধু নয়। সখ্য তৈরি হয় পাঁচ-ছয় বছর আগে। পরিচিত জনেরা বলছেন, শাহীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে ব্যবসার খাতিরে ঘনিষ্ঠ হন এমপির সঙ্গে। আই নশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে বা অতি লোভে এমপিকে হত্যা করেন শাহীন। ইনডিপেনডেন্ট টিভির অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আক্তারুজ্জামান শাহীন ৩০ বছর আগে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সে দেশের নাগরিকত্বও পেয়েছেন।  ছয়-সাত বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তখন ব্যবসায়িক স্বার্থে পরিচয় হয় এমপি আজীমের সঙ্গে, গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।  

কোটচাঁদপুর পৌরসভা মেয়র ও শাহীনের বড় ভাই শহিদুজ্জামান সেলিম বলেন, কীভাবে পরিচয় এটা আমি বলতে পারব না। যেভাবেই হোক পরিচয় হয় ও তাঁদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তবে তারা বাল্যবন্ধু না। 
 
সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এমপি আজীমের প্রভাবে স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন শাহীন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। এমপিকে বাদ দিয়ে একক নিয়ন্ত্রণ নিতে চান শাহীন। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই এই হত্যা। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাফিয়া চক্র ও চোরাচালানের মতো বিভিন্ন এমপি জড়িত বলে শুনেছি।   
 
স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, এমপি আজীম এলাকায় একাই চলাফেরা করতেন। শাহীনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও কাউকে সঙ্গে নিতেন না।  

মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসূল বলেন, ‘একদিন শাহীনের বাগানবাড়িতে আমি আর এমপি গিয়ে ছিলাম। তখন আমাকে নিচে রেখে শাহীনের সঙ্গে এমপি কথা বলেছিল, আমাকে নেয়নি।’ 

কালিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম বলেন, ‘এমপি প্রায় সময় একা একা চলতো, কাউকেই সাথে নিতো না। আমরা অনেকবার তাকে এ নিয়ে বলেছি।’ 

তাঁদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়।

আরও পড়ুন: