চাপা পোশাক পরতে বাধ্য করা হত, চিকিৎসকের কাছেও যেতে পারতাম না: অন্তঃসত্ত্বা প্রসঙ্গে রাধিকা

একদিকে চড়া আলো, ক্যামেরার ঝলকানি, লাইট-সাউন্ড-অ্যাকশন... অন্যদিকে ভেতরে নড়াচড়া করছে এক নতুন প্রাণ। রাধিকা আপ্তে তখন অন্তঃসত্ত্বা। চেহারায় পরিবর্তন, পেট একটু ফোলা, শরীরে ব্যথা। খাবারের খিদেও যেন কিছুতেই থামছে না।

কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো মানেই ‘পারফেক্ট লুক’। তাই চেহারা বদলানো রাধিকাকে বলা হলো, ‘চাপা পোশাক পরো!’
আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বললেই চোখ কুঁচকে উঠতেন প্রযোজক!

এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা বলেন, ‘প্রযোজক মোটেই খুশি হননি খবর পেয়ে। আমি ফুলে গিয়েছিলাম। শরীরে যন্ত্রণা ছিল। সব সময়ে খিদে পেত। তা সত্ত্বেও চাপা পোশাক পরতে বলা হত আমাকে। এমনকি শারীরিক অস্বস্তির সময়ে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়নি।’

এ যেন রূপোলি পর্দার নায়িকার জীবনে বাস্তবের কঠিন চিত্রনাট্য! কিন্তু গল্পে টুইস্ট আসে হলিউডে।

একদিন তিনি তাঁর হলিউড পরিচালককে বললেন, ‘চেহারা একটু বদলে গেছে, খাওয়াদাওয়া বেড়ে গেছে!’

বেবি বাম্প ছবি প্রকাশ করেছিরেন রাধিকা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াপরিচালক হেসে উত্তর দিলেন, ‘তাতেই বা সমস্যা কোথায়? তুমি তো মা হতে চলেছো!’ এই কয়েকটা কথায় রাধিকার মনে স্বস্তি এসেছিল।

রাধিকা বলেন, ‘শুধু সামান্য সহযোগিতা, একটু সহানুভূতি, এইটুকুই তো প্রত্যাশা। কাজের জগতে এটুকু মানবিকতা থাকলেই আমরা এগোতে পারি সম্মানের সঙ্গে।’

প্রসঙ্গত, রাধিকা আপ্তে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর লন্ডনের বিএফআই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেটে প্রথমবারের মতো নিজের বেবি বাম্প প্রকাশ্যে আনেন। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তিনি জন্ম দেন এক কন্যাসন্তান। তাঁর স্বামী বেনেডিক্ট টেইলর ব্রিটিশ নাগরিক।