অন্তঃসত্ত্বাকালীন শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে

ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। 

জীবন থেমে গেল, রয়ে গেল শুধু এ কিংবদন্তির গান। মাত্র ১০ বছর বয়সে বড়বোন, তথা কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে শুরু হয়েছিল তাঁর এই সুরেলা সফর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। যদিও তাঁর জীবন ছিল নানা টানাপোড়েন আর পারিবারিক দ্বন্দ্বে ভরা।

মাত্র ১০ বছর বয়সে সংগীতাঙ্গনে পা রাখেন আশা ভোঁসলে। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলকে বিয়ে করেছিলেন আশা ভোঁসলে। দুজনের বয়সের ফারাক ছিল অনেক। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। বিশেষ করে তাঁর বড়বোন লতা মঙ্গেশকর এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন।

অভিযোগ করেছিলেন যে, পরিবার থেকে দূরে থাকতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল এবং বড়বোনের সঙ্গে যোগাযোগও দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।

অন্যদিকে, তিনি জানান, সেই সময় তাঁর শ্বশুরবাড়ির অনেকেও একজন গায়িকাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ছিল নানা জটিলতা।

সেই দাম্পত্যজীবনে নির্যাতন ও স্বামীর দুর্ব্যবহার নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছিলেন আশা ভোঁসলে। একসময় প্রায় প্রতিদিন তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলেছে বলে জানান। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে তিনি ফিরে আসেন নিজের মা ও ভাইবোনদের কাছে।

আশা ভোঁসলে ও আর ডি বর্মণ। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বিয়ে ভাঙার পর সুরকার-গায়ক আরডি বর্মণের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সম্পর্কেও ছিল টানাপোড়েন, যদিও শেষপর্যন্ত তাঁরা আলাদা থাকতেন, তবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় ছিল।

আজ সেসব অতীত সাঙ্গ করে পরপারে আশা ভোঁসলে। মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এই কিংবদন্তি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শচীন দেববর্মণ, সলিল চৌধুরী, আর ডি বর্মণ, এ আর রহমানের মতো শীর্ষ সব সুরকার-গীতিকারের সঙ্গেই কাজ করেছেন। হিন্দি, বাংলা ছাড়াও ২০টি ভাষায় গান গেয়েছেন। ভূষিত হয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ, বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক সম্মানে।