চলতি মে মাসের শুরুর সাত দিনের মধ্যে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির মূল হলে অনুষ্ঠান হয়েছে দুদিন। এর মধ্যে গত ৩ মে ছিল নাট্যদল ‘থিয়েটার (আরামবাগ)’‑এর নাটক ‘দ্রৌপদী পরম্পরা’র মঞ্চায়ন। ২ মে হয় ‘রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা’ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাকি পাঁচদিন কোনো আয়োজন ছিল না। অথচ আবেদন করেও হল বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে।
জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির হল বরাদ্দ সম্পর্কিত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে ৬ দিনই হল বরাদ্দের তালিকায় ‘সংরক্ষিত’ লেখা। দলের নামের কলামে লেখা–বা.শি.এ.; অর্থাৎ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শুধু ৩ মে ‘থিয়েটার (আরামবাগ)’-এর নামে বরাদ্দ ছিল। এর বাইরে রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা তাদের অনুষ্ঠান করেছে শিল্পকলা একাডেমির নামে ‘সংরক্ষিত’ থাকা দিন ২ মে। এ অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির হল বরাদ্দ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কিছু সংগঠনের কাছ থেকে। যদিও শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বলছে–সব বিধি মেনেই হল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বলেন, ‘এই বিষয়গুলোতে আমরা খুবই স্বচ্ছ। আমাদের উচ্চপর্যায়ের একটা কমিটি আছে, তারা যাচাই-বাছাই করে হল বরাদ্দ দেয়। আমাদের মূল হল মাত্র তিনটি, এই তিন হলের জন্য এত আবেদন, যেগুলো আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হয়। যাচাই-বাছাই করে হয়তো সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না।’
মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ড. সৈয়দ জামিল আহমেদের। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান‑পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন নাট্যজন ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। তবে দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগও ছিল বেশ নাটকীয়তায় পূর্ণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। এ সময় সভাপতির বক্তব্য দিতে এসে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই সময় লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্র তাঁর পাশে বসে থাকা সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনের হাতে তুলে দেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে নাট্যকর্মীদের অনেকে সামাজিকমাধ্যমজুড়ে সৈয়দ জামিল আহমেদকে মহাপরিচালক পদে বহাল থাকার অনুরোধ জানান, যদিও তিনি আর ফেরেননি। পদত্যাগের আগমুহূর্তে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সেই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলেন ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। তবে অভিযোগের অনেকগুলো কথা পুরো সত্য নয় বলে দাবি করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা।
আনুষ্ঠানিকভাবে গত ৪ মার্চ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বলেন, ‘শিল্পকলার কাজগুলো বৈচিত্র্যময়, কাজ করে খুব ভালো লাগছে। এরই মধ্যে আমরা চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছি, যেগুলো শিল্পকলার ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো হয়েছে।’
নতুন বাস্তবতায় চৈত্র সংক্রান্তি, পয়লা বৈশাখ ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পকলা বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি কিছু অভিযোগও উঠছে। মূলত গণঅভ্যুত্থান‑পরবর্তী পরিস্থিতিতে কয়েকটি নাট্যদল হল বরাদ্দ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আলোচনায় হল বরাদ্দ পাওয়া-না পাওয়া
গত এপ্রিলের শেষদিকে মে মাসে হল বরাদ্দ পাওয়া নাট্যদলগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। তালিকা অনুযায়ী, চলতি মাসের ৩১ দিন হিসাবে তিনটি মিলনায়তনে ৯৩ দিনের মধ্যে ৫৪ দিনই শিল্পকলা একাডেমির নামে হল সংরক্ষিত রেখেছে বরাদ্দ কমিটি। এ নিয়ে নাট্যাঙ্গনে কানাঘুষা চলছে। মঞ্চকর্মীদের দাবি, এসব দিন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে আবেদন করেও হল বরাদ্দ পায়নি বেশ কিছু নাট্যদল।
আবেদন করেও হল বরাদ্দ না পাওয়া নাট্যদলের একটি ‘অনুস্বর’। এ বিষয়ে জানতে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের পক্ষ থেকে দলটির প্রধান মোহাম্মদ বারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘কেন, কী কারণে আমাদের হল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, সেটা আমরা জানি না। কদিন আগে সেখানকার কর্মকর্তা জসীম উদ্দিনের (নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উপপরিচালক) একটি সাক্ষাৎকারও পড়েছি আমি, তিনি বলার চেষ্টা করছেন যে, আবেদন পাওয়া যায়নি, আবার আবেদন করলেই কেউ হল বরাদ্দ পাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, শিল্পকলার কিছু নীতিমালা আছে। তিনি যেসব কারণ ব্যাখ্যা করেছেন, সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন আছে। যেমন আমি নিজের দল থেকে বলতে পারি, আমার দল আবেদন করেও পায়নি, তার (না পাওয়ার) যথাযথ কোনো কারণও জানি না। আমাদের নাটকগুলো তো এর আগেও শিল্পকলায় মঞ্চায়ন হয়ে আসছিল।’
বিষয়টি কীভাবে দেখছেন–জানতে চাইলে মোহাম্মদ বারী বলেন, ‘এই বিষয়গুলো শিল্পকলা একাডেমিরই ভালো বোঝা উচিত। শিল্পকলা একাডেমি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা একটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে সকলের অধিকার আছে। সেখানে আমরা নাটক করতে পারছি না কেন–এই প্রশ্নটা আমাদের সকলেরই। আমি মনে করি, এটা নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিত। এই বিষয়ে হয়তো কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আমরা কথা বলব একসময়।’
তবে হল বরাদ্দ পাওয়া-না পাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন। তাঁর মতে, এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমি বেশ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে। হল বরাদ্দ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের পরই হল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন বলেন, ‘আমাদের যেসব রাষ্ট্রীয় বা শিল্পকলার নিজস্ব প্রোগ্রাম থাকে, সেগুলোও করতে হয়। এই দুই ক্ষেত্রকে সমন্বয় করতে গিয়ে যাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারা তো পাচ্ছেনই; আর যারা পাচ্ছেন না, তাদের একটু অসন্তোষ থাকতে পারে। কিন্তু তারা এখন পাননি বলে যে ভবিষ্যতেও পাবেন না–এমনটা নয়। আমরা আমাদের সরকারি ও বেসরকারি প্রোগ্রাম সমন্বয় করে কমিটির মাধ্যমে হলের বরাদ্দ দিই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিল্পকলা একাডেমিতে বর্তমানে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ফয়েজ জহিরকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি হল বরাদ্দ কমিটি রয়েছে, যা গঠিত হয়েছিল ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ মহাপরিচালক থাকাকালে।
শিল্পকলার নামে ‘সংরক্ষিত’ রাখার বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আগে এই তালিকায় যদি কাউকে বরাদ্দ দেওয়া না হতো অথবা কোনো আবেদন না পাওয়া যেত, তাহলে ওই ঘর বা কলামগুলো খালি রাখা হতো। সরকারি নিয়মানুযায়ী আসলে কোনো কলাম খালি রাখা যায় না, কিছু একটা লিখতে হয়। সেক্ষেত্রে এখানে লেখা হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির (বা শি এ) কাছে ওই তারিখটা সংরক্ষিত আছে। আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী বরাদ্দ দিয়ে থাকে। খেয়াল করে দেখেন, শব্দটা লেখা হয়েছে সংরক্ষিত, বরাদ্দ নেয়নি শিল্পকলা একাডেমি; অর্থাৎ সংরক্ষিত রেখেছে। এবার যদি আগ্রহী কারও কাছ থেকে আবেদন পাওয়া যায়, তাহলে নিয়মানুযায়ী তাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
তবে এই ‘সংরক্ষিত’, তথা ফাঁকা দিনে আবেদন করলে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে—এ বিষয়টি সংগঠনগুলোর কাছে স্পষ্ট নয়। ফলে একবার বরাদ্দ চেয়ে না পেলে, ফাঁকা দিন দেখে নতুন করে কেউ আবেদন করছেন না। কারও কারও পূর্ব অভিজ্ঞতাও এমন আবেদন না করার পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে।
বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি বলে স্বীকার করেছেন জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এটা একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সেটা হচ্ছে–নিচে যে বিশেষভাবে কিছু লাইন লেখা থাকে, ওইখানে লেখা উচিত ছিল আমাদের যে, সংরক্ষিত তারিখগুলোতে কোনো নাট্যদল যদি আবেদন করে, তাদেরকে নিয়মানুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
কত আবেদন পড়েছিল?
শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক মঞ্চায়নের জন্য বর্তমানে তিনটি হল রয়েছে–জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হল। নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে জানিয়েছে, চলতি মে মাসে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিল ১৬টি নাট্যদল। এর মধ্যে ৪টি নাট্যদল ছাড়া বাকি সবাই হল বরাদ্দ পেয়েছে। কিছু নাট্যদল মূল হল বরাদ্দ না পেলেও অন্য হল পেয়েছে। বাদ পড়েছে দেশ নাটক, এথিক, অনুস্বর ও মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়।
এদিকে, মে মাসে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছিল ১৮টি নাট্যদল। সেখানে ‘অন্তর্যাত্রা’ নামের একটি নাট্যদল ছাড়া বাকি সবাই এই হল বরাদ্দ পেয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে অন্তর্যাত্রাকে বরাদ্দ দেওয়া হয় স্টুডিও থিয়েটার হল।
এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হল বরাদ্দের জন্য আবেদন এবং বরাদ্দ পাওয়ার কিছু নথিপত্র ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের হাতে রয়েছে। যেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো কোনো নাট্যদল একমাসে বরাদ্দ না পেলে পরবর্তী কিংবা অন্যকোনো মাসে বরাদ্দ পেয়েছে। আবার কিছু নাট্যদল প্রত্যাশিত হল না পেলেও অন্য হল বরাদ্দ পেয়েছে।
গত এপ্রিলে জাতীয় নাট্যশালার মূল হল বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিল ১৯টি নাট্যদল, এর মধ্যে বরাদ্দ পায় ১১টি। যদিও বরাদ্দের প্রাথমিক তালিকাতে দেখা গেছে, মূল হলে এপ্রিল মাসের প্রথম ৯ দিনই কোনো অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এপ্রিলে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের জন্য আবেদন ছিল ২১টি, বরাদ্দ পেয়েছে ১০টি। স্টুডিও থিয়েটার হলের জন্য ৭টির মধ্যে বরাদ্দ পায় ২টি। এর আগের মাসের চিত্রও একই ছিল। তবে মার্চে রমজান মাস থাকায় সেসময় নাট্য প্রদর্শনী তেমন ছিল না। জাতীয় নাট্যশালার মূল হলের জন্য আবেদন পড়েছিল ৩টি, বরাদ্দ পায় ২টি। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের জন্য ৯টির মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫টিকে। স্টুডিও থিয়েটার হলের জন্য ২টি আবেদনের দুটিই মঞ্জুর করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাট্যশালার জন্য ১৭টির মধ্যে ১৪টি বরাদ্দ পেয়েছে। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের ক্ষেত্রে ১৩টির মধ্যে ১০টি বরাদ্দ পায়। স্টুডিও থিয়েটার হলের জন্য যে ৪টি নাট্যদল আবেদন করেছিল, তাদের সবাই বরাদ্দ পেয়েছে।
বিপাকে কিছু নাট্যদল
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের তালিকাভুক্ত প্রায় ৫০টি নাট্যদল রাজধানীতে নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী করে। এর মধ্যে ৫ আগস্ট‑পরবর্তী পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের দোসর প্রশ্নে বিপাকে পড়েছে ‘মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়’, ‘এথিক’, ‘দেশ নাটক’, ‘প্রাঙ্গণেমোর’, ‘পদাতিক নাট্য সংসদ’সহ কিছু নাট্যদল। এসব দলের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘সুবিধাভোগী’ বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এথিক ও দেশ নাটক কিছু প্রদর্শনী করেছে। তবে সেগুলো নিয়েও বেঁধেছে জটিলতা। নাট্যকর্মীদের দাবি, অভিযুক্ত সদস্যরা এখনও সামাজিকমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে সেসব দলকে বরাদ্দ দিলে ‘মব’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ‘নৃত্যশিল্পী সংস্থা’ ও ‘নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন’ নামের দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজেদের মধ্যকার বিরোধের দরুনই আবেদন করেও বরাদ্দ পায়নি। যদিও পরে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দুই সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।
কিছু নাট্যদলের তরফ থেকে রয়েছে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ। এ বিষয়ে দেশ নাটকের সদস্য এবং ‘ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদ’-এর সদস্য সচিব কামাল আহমেদ ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে জানান, বিগত চার মাস ধরে শিল্পকলায় হল বরাদ্দ পাচ্ছে না তাঁর দল। সর্বশেষ জানুয়ারিতে শিল্পকলায় হল বরাদ্দ চেয়েও পায়নি দেশ নাটক। অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মহানগরীর ৭১টি নাট্যসংগঠনকে নিয়ে শিল্পকলায় ‘ঢাকা মহানগর নাট্য উৎসব’ আয়োজনের জন্য অনুমতি মেলেনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিলে কয়েকজন নাট্যকর্মী জানান, এই উৎসব আয়োজনের পেছনেও নাকি দূরভিসন্ধি ছিল!
এদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শিল্পকলায় হল বরাদ্দ পাচ্ছে না প্রাঙ্গণেমোর। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তবে দলটির প্রধান অনন্ত হিরা বলেন, ‘নাট্য সংগঠন তো কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। একটা দলে বিভিন্ন আদর্শের মঞ্চকর্মীরা থাকেন। আমাদের নাট্যকর্মীদের কাছ থেকে কোনা বাধা নেই, কিন্তু একটা চক্র বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, নাট্যচর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’