আপনারা কি চান ছেলেটা তার বাবাকেও হারাক, প্রশ্ন আলভীর

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মৃত্যুর সময় শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলেন আলভী। সেখান থেকে ওইদিন দ্রুত দেশে ফেরার বার্তা দেন তিনি। তবে স্ত্রীর শেষ বিদায়ের সময়ে তাঁকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাতে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে প্রায় আধঘণ্টার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অভিনেতা। যেখানে তিনি স্ত্রীর আত্মহত্যা ঘিরে ওঠা প্রায় সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। জানিয়েছেন, তিনি মূলত মবের ভয়ে আত্মগোপনে আছেন।

ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কথাগুলো শুনবেন এবং প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করবেন।’ এরপর তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘গল্পের একটা পাতা পড়েই জাজ (বিচার) করছেন, গল্পের একটা পাতা পড়েই আপনারা মনের মতো যা ইচ্ছা বলছেন। কিন্তু পাতার একপাশ পড়বেন, অন্যপাশ পড়বেন না; তা তো হয় না।’

আলভী বলেন, ‘আমি আসলে সবকিছু গুছিয়ে বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। আপনাদের কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমি ভিডিওটি করছি।’

যোগ করে বলেন, ‘আপনাদের শেষ প্রশ্ন থেকেই শুরু করছি। আপনারা বলছেন, যে মানুষটা (ইকরা) ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, মরে গেল—শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না! এই যে আপনাদের প্রশ্নটা, আচ্ছা, আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রেখেছেন? দেশে আসার পরই আমার ওপর মব তৈরি হবে, আমি দেশে আসা মাত্রই আপনারা আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলবেন। আমার ফোনে এত এত থ্রেটস! আমি আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না।’

বিমানবন্দরের বাইরে মব হতে পারে—এমনটা উল্লেখ করে আলভী বলেন, ‘আমার কাছে এমন তথ্যও এসেছে যে, আমি দেশে আসলে বিমানবন্দরের বাইরে লোক রাখা আছে। আমি আসা মাত্রই তারা আমাকে মেরে ফেলবে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে ঠিক আছে, আমি সেটা আইনিভাবে মোকাবিলা করব। কিন্তু এখন যদি আমিও মারা যাই, রিজিকের (পুত্র) মায়ের কাছে চলে যাই; তাহলে রিজিকের কী হবে? আপনারা কি চান রিজিক তার বাবাকেও হারাক? এই ছেলেটার কী দোষ? সে কীভাবে বড় হবে? মা-ও থাকবে না, বাবাও থাকবে না—আপনারা এটা চান? ইকরার শেষ মুখটা আপনারা আমাকে দেখতে দেননি, ইকরার পরিবার আমাকে দেখতে দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছর ইকরার সাথে সংসার করেছি। একটা মানুষ যদি তার শত্রুর সাথেও ১৬ বছর সংসার করে, এক ছাদের নিচে থাকে, সে মারা গেলে তাকে দেখার জন্য ছটফট করে। আর সে আমার বউ ছিল, ভালোবেসে আমরা বিয়ে করেছি। সে মারা গেছে, শেষবারের মতো তার চেহারা আমি দেখব না?’

প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেন ইকরা। সেসময় আলভী নাটকের শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন। ঘটনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন এক প্রতিক্রিয়া জানান আলভী।

তিনি লেখেন, ‘মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’

এদিকে, ইকরার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা অভিযোগ করেন, একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর জন্যেই আলভী-ইকরার মধ্যে দাম্পত্য কলহের শুরু। আর সে কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সেই প্রেক্ষিতে রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে আলভীসহ কয়েকজনের নামে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন।