রোজায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

সারা বছর খুব স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও রোজার মাস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ ভাবাবে আপনাকে। কারণ রোজায় পুরো একটি মাসজুড়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকে। সারা বিশ্বের মধ্যে টাইপ-১ ও টাইপ-২ মিলিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা নেহায়েত কম না।  ডায়াবেটিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোজায় যে সকল সমস্যা হতে পারে সেগুলো হলো-

১. হাইপোগ্লাইসেমিয়া মানে ব্লাড সুগার কমে যাওয়া। 
২. হাইপার গ্লাইসেমিয়া মানে  ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়া। 
৩. ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস।
৪. ডিহাইড্রেশন অর্থাৎ পানিশূন্যতা।

এ কারণে সকল ডায়াবেটিস বোগীদের তাদের অবস্থান অনুযায়ী ৪টি গ্রুপে ভাগ করা হয়ে থাকে। এখন আপনি সহজেই অনুমান করে নিতে পারেন যে, রোজায় আপনার ডায়াবেটিস ঝুঁকি কেমন থাকবে।

অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ

১. যদি মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়
২. যদি বার বার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়
৩. যাদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না
৪. গর্ভাবস্থা
৫. কোন শারীরিক অসুস্থতা থাকলে
৬.  ডায়ালাইসিস পাওয়া রোগী

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ
১. যাদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ ভালো নয়
২. যাদের কিডনি সমস্যা আছে
৩. যাদের হার্টের জটিলতা আছে
৪. যাদের মাঝে মাঝে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়
৫. ইনসুলিন নিচ্ছেন এমন কেউ যদি একা একা থাকেন
৬. অসুস্থ বৃদ্ধ ব্যক্তি
৭.  সারাদিন না খেয়ে থাকলে বেড়ে যেতে পারে এমন কোন অসুখ বহন করছেন এমন ব্যক্তি

কম ঝুঁকিপূর্ণ
উপরোক্ত গ্রুল্পগুলো থেকে নিজের অবস্থান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে খুব সহজেই আপনি সিয়াম সাধন করতে পারেন। তবে যদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- 
১. আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। 
২. মেডিক্যাল পরীক্ষা করুন।
৩. ডায়াবেটিক বিষয়ক শিক্ষা বা পরামর্শ গ্রহণ করুন।

রোজার সময় আপনার সম্ভাব্য সমস্যা বিবেচনা করে নিচের কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা উচিত। তাহলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন। যেমন: 
১.  ব্লাড সুগার পরীক্ষা
২.  রক্তের HbA1C পরীক্ষা
৩. ব্লাড প্রেশার
৪. লিপিড প্রোফাইল
৫.  কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর করণীয়
১. এ সময়ে সর্বপ্রথম সারা মাস ধরে নিজের বিশেষ যত্ন নেওয়ার মানসিকতা ও পরিকল্পনা রাখুন। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন।
২.  হাইপো বা হাইপার গ্লাইসেমিয়ার লক্ষণগুলো অবশ্যই জেনে নিন। 
৩. নিয়মিত ব্লাড সুগার ফলোআপ করুন। লক্ষ্য রাখুন রোজায় ইনসুলিন বা ওষুধের সাথে ব্লাড সুগার এডজাষ্ট করে কিনা। 
৪. প্রথম দিকে ইফতারের আগমূহুর্তে, ইফতারের ২ ঘণ্টা পরে ও সাহরির ২ ঘণ্টা পর ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। 
৫. এ ছাড়া সারাদিনে যখনই খারাপ লাগবে তখনই ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। 

মনে রাখবেন, শুধু রোজার মাসের জন্য সকালের ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজটুকু নিতে হবে ইফতারে। তবে রাতের ডোজটুকু নিতে হবে সাহরির সময়।  কোন বেলায় ওষুধ বা ইনসুলিন নিতে ভুলে গেলে, পরবর্তী বেলায় ওভারডোজ করবেন না কখনোই। অর্থাৎ, ডোজ বা পরিমাণ বাড়িয়ে পরের বেলায় নেওয়া যাবে না। তাতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার চান্স থাকবে। প্রয়োজনে ইফতারের আগ দিয়ে সুগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে সাহরির ডোজ অর্ধেক বা কমিয়ে নিতে হবে। অবশ্যই তা নির্ভর করবে আপনার ব্লাড সুগার কি পরিমাণে থাকে তার ওপর।

কখন রোজা ভাঙবেন?
১. রক্তের শর্করা বা ব্লাড সুগার 3.3 mmol/Ltr–এর নিচে নেমে এলে। 
২. ব্লাড সুগার লেভেল 16.7 mmol/L–এর ওপরে উঠলে।
৩. রোজা রাখা অবস্থায় অসুস্থবোধ করলে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ঢাকা

আরও পড়ৃন: