হঠাৎ বুকের ব্যথায় যা করবেন

বুকে ব্যথা, অনেকের জন্য নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেকেই বুকে ব্যথার কারণ কী? তা বুঝতে পারেন না। বর্তমানে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়ছে। হঠাৎ বুকে ব্যথা, অনেকেই না বুঝে নিজের মতো করে ওষুধপত্র খেয়ে থাকেন। এতে কিন্তু বিপদ কমে না। শুরুতে বুকে ব্যথার অবহেলা করলে, পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। 

বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যথা অনুভুত হতে পারে। যেমন– হার্টে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বুকে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া হৃদপিণ্ডে রক্তনালীর ব্লকেজের কারণেও হতে পারে। আবার ফুসফুসে সংক্রমণ হলে বুকে ব্যথা অনুভুত হয়। যে কোনো বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। তবে, যারা ধূমপান করেন, যাদের রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা বেশি থাকে অথবা ডায়াবেটিসের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।  

আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. আফরিদা ইসলাম মনে করেন, বুকে ব্যথা হলেই যে বিপদ সংকেত ব্যাপারটি এমন নয়। অনেক সময় গ্যাসের ব্যথা থেকে বুকে ব্যথা হতে পারে। অনেকেই এই দু্ই ব্যথাকে গুলিয়ে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে বুকে জ্বলুনি হচ্ছে, নাকি প্রচণ্ড ব্যথা করছে, চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে নাকি হাঁসফাঁস করছেন?  তা ভালোভাবে বুঝতে হবে। বুকে জ্বলুনি বাদে প্রচণ্ড ব্যথা, চিনচিনে ব্যথা এবং নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলেই অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এরপর ইসিজি করে নিশ্চিত হতে হবে।

লক্ষণ
১. নিজেকে অনেক বেশি দুর্বল লাগা। চলাফেরা করতে ইচ্ছে না করা।  
২. শ্বাসকষ্ট হওয়া। বুকে হঠাৎ অনেক বেশি চাপ অনুভব করা। 
৩. অনেক ক্ষেত্রে বুক ভারী লাগে, বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
৪. বুকের ব্যথা হাত থেকে চোয়াল এবং পরবর্তীতে পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। 
৫. শরীরের রক্তচাপ কমে যাওয়া।  
৬. বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া।
৭. জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা তৈরি হওয়া।

ডা. আফরিদা ইসলাম বলেন, ‘হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়মিত জীবনযাপন। এ ছাড়া বাইরের তেলযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, চর্বিযুক্ত খাবারে মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। বাইরের ফাস্টফুড, চবিমুক্ত খাবার পরিহার  করতে হবে। এছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর বুকে চিনচিনে ব্যথা শুরু হলে যত কষ্টই হোক ধূমপান পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া বুকে ব্যথা হলে অন্যকে জানান। অনেক সময় নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’