এখন পর্যন্ত যতগুলো খাদ্যব্যবস্থা আছে, তার ভিতর ‘মেডিটেরিয়ান ডায়েট’ হচ্ছে- লিভারে চর্বি কমানোর জন্য সর্বোত্তম। তবে, আমাদের প্রথাগত খাদ্যাভ্যাসে এটি পুরোপুরি রপ্ত করা অসম্ভব প্রায়। তবে, কিছু খাবার ফ্যাটি লিভারের রোগীদের অবশ্যই পরিহার করা উচিত। যেমন:
১. সাদা চিনি এবং চিনিযুক্ত যেকোনো খাবার, ডেজার্ট, জুস বা পানীয় এড়িয়ে চলুন। খাবারের বাড়তি চিনিই ফ্যাট হিসেবে যকৃতে জমা হয়।
২. উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা খাবার যেমন: চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও এড়িয়ে চলুন।
৩. রান্নায় যে লবণ ব্যবহৃত হয় এর বাইরে যেকোনো লবণ, লবণযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারও নিষেধ।
৪. সাদা ভাত, ময়দার তৈরি পাউরুটি ও পরোটা, নান, নুডলস ও বেকারির খাবার যথাসম্ভব কমিয়ে দিন।
৫. অ্যালকোহল, রেড মিট (গরু-খাসির মাংস) এড়িয়ে চলুন।
আরও কিছু খাবার আছে, যা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সবার জন্য উপকারী। যেমন:
১. সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজি ও কাঁচা সবজির সালাদ।
২. ডাল ও বীজজাতীয় খাবার যেমন: ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, বাদাম।
৩. সামুদ্রিক মাছ: ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা, স্যামন, সার্ডিন।
৪. ওটমিল বা লাল আটার বা যবের রুটি ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যা আপনার ক্ষুধাটাকে দমিয়ে রাখবে এবং আপনার পেট অনেক বেশি সময় পর্যন্ত ভরা থাকবে৷
এমন অনেক ধরনের খাবার আছে যা ফ্যাটি লিভার রোগীর জন্য উপকারী। তবে এক্ষেত্রে এমন খাদ্যাভ্যাস করা উচিত, যা সারাজীবন চালিয়ে যাওয়া যায়।
ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি কর্মমুখর জীবনাচরণ খুব বেশি জরুরি। যেমন:
১. সপ্তাহে গড়ে ১৫০ মিনিট হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার পরিশ্রম করুন, যাতে শরীরটা ঘাম দেয়।
২. অফিসে একটানা অনেকক্ষণ বসে কাজ করবেন না। ৩০-৬০ মিনিটের বিরতিতে একটু উঠে হেঁটে আসুন।
৩. খুব বেশি রাত পর্যন্ত জেগে না থাকা এবং রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
৪. অফিস থেকে ফেরার পথে, কিছুটা দূরত্ব হেঁটে আসুন। সম্ভব হলে লিফট ব্যবহার না করে, সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
ফ্যাটি লিভার সারিয়ে তোলার তেমন ভালো কোন ঔষধ নেই। কিন্তু লিভারের নিজেকে সারিয়ে তোলার দারুণ ক্ষমতা রয়েছে।
লেখক: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমই



