ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইন মানছে না বেসরকারি হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসার জাতীয় গাইডলাইন মানছে না মানার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে। গত বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ২৮১ জনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গুতে জটিলতা ও মৃত্যু কমাতে গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

২০২২ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৬১ হাজারের বেশি মানুষ। মারা যায় ২৮১ জন। মৃত্যুর কারণ জানতে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করছে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। 

এতে দেখা যায়, সব রোগীই মারাত্মক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। শক সিনড্রোম ও একাধিক অঙ্গ অকার্যকর হয়ে মারা গেছেন তারা। কিছু হাসপাতালে জটিল রোগীদের চিকিৎসায় ঘাটতি পাওয়া গেছে। আর কিছু বেসরকারি হাসপাতালে অতি চিকিৎসার শিকারও হয়েছেন রোগী।

ডেঙ্গু চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট। অনেক হাসপাতালেই জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট হচ্ছে না।

ডেঙ্গু চিকিৎসা জাতীয় গাইডলাইনের প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। সেখানে যে ফ্লুইড দেওয়া হয়, সেটা ম্যানেজমেন্টের সময় দেখা গিয়েছে যে এটা ওনারা ওনাদের স্টাইলে দেন। গাইড লাইন মেনে এটা দিলে মৃত্যুর হার বা অতিচিকিৎসা বা এমন কোনো চিকিৎসা আমরা না দেই যেটাতে রোগীর ক্ষতি হয়।’ 

মৃত্যু কমাতে জটিল রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ সেবা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নতুন কোনো রকম তত্ত্ব-উপাত্ত না যোগ করে আমাদের গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা জরুরী এবং এটাই অত্যাবশ্যকীয়। এর বাহিরে যাওয়া যাবে না।’ 

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উদ্দেশ্যে বিএমডিসি নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘যে যতই প্রশিক্ষিত হন। আপনি যত বড় মাপেরই চিকিৎসক হননা কেন, আপনি যেটা আমাদের ন্যাশনাল গাইডলাইন আমাদের ডেঙ্গু চিকিৎসার সে অনুযায়ী আপনি চিকিৎসা করুন।’

ডেঙ্গুতে জটিলতা ও মৃত্যু কমাতে তৈরি জাতীয় গাইডলাইনে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দেয়া আছে পরিপূর্ণ নির্দেশনা।