লিপস্টিক নাকি লিপ টিন্ট, কোনটি ব্যবহার করবেন? 

লিপস্টিককে বলা যায় মেকআপের প্রাণ। যত সুন্দর করেই সাজুন, লিপস্টিক না পরলে তা ঠিক পূর্ণতা পায় না। কিন্তু সময়ের আবর্তে ঠোঁট রাঙ্গাতে লিপস্টিকের পাশাপাশি লিপগ্লস, লিপ টিন্টের মতো অনুষঙ্গও ব্যবহার করছেন এখনকার তরুণীরা। 

আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও আসলে এগুলোর টেক্সচার, ধরন আর ব্যবহারে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

লিপস্টিকের ব্যবহার

ম্যাট, গ্লসি, গ্লিটার, সাটিন, নিয়ন একেক সময় একেক টেক্সচারের লিপস্টিক থাকে চলতি ধারায়। লিপস্টিকের রঙ মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিচয়ও দেয়।

আনুষ্ঠানিক যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিন ক্লাসিক রেড বা ডিপ বারগান্ডি শেডের লিপস্টিক। অফিস বা ক্লাসে যাবার সময় আবার এমন রং ব্যবহার করবেন যাতে দূর থেকে দেখে মনে হয় ঠোঁটে কোনো লিপস্টিকই লাগানো হয়নি! ম্যাট ফিনিশের ন্যুড লিপ কালার এ সময় উপযুক্ত। আবার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট অথবা বোল্ড মেকআপ লুকের জন্য মভ, পার্পল, বেরি, কমলা, গোলাপির মতো ‘আনকনভেনশনাল’ রঙের কোনোটি বেছে নিতে পারেন। 

গরমের সময় ক্রিম বা গ্লসি ধরনের লিপস্টিকের বদলে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। তবে ত্বক শুষ্ক হলে ম্যাট লিপস্টিকের পরিবর্তে ক্রিমি লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন।

লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে প্রাইমার দিন। এতে লিপস্টিকের রঙ অনেকক্ষণ স্থায়ী হবে এবং সঠিকভাবে ফুটেও উঠবে।

লিপ টিন্টের ব্যবহার

বাজারে মিলবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপ টিন্ট। ছবি: সংগৃহীত
ঠোঁটে প্রাকৃতিক এবং দীর্ঘস্থায়ী লুকের জন্য ব্যবহার করা হয় লিপ টিন্ট। লিপ টিন্টকে লিপ স্টেইন্স বা ক্রিম ব্লাশও বলা হয়ে থাকে; কারণ এই একটি প্রডাক্ট ঠোঁটের পাশাপাশি গালে ব্লাশ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

এই অনুষঙ্গটি সাধারণত তরল বা জেল-ভিত্তিক হয়, ফলে ঠোঁট একে শুষে নেয়। এক ধরণের গ্রেডিয়েন্ট বা আভা ছড়িয়ে উষ্ণ আবহাওয়ায় ঠোঁটে সতেজভাব এনে দেয় লিপ টিন্ট। 

লিপস্টিক সহজে উঠে যায় কিন্তু লিপ টিন্ট সারাদিন স্থায়ী হয়। ফলে লিপস্টিক বা লিপ গ্লসের জন্য বেজ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে এই পণ্যটি। মনে রাখবেন, লিপ টিন্ট ব্যবহারের আগে লিপ বাম ব্যবহার করা যাবে না। এতে ঠোঁটে রং ভালো মতো বসতে পারে না।

লিপস্টিক বনাম লিপ টিন্ট

লিপস্টিক ও লিপ টিন্টের প্রধান পার্থক্য তাদের ফরমুলেশন এবং ফিনিশের মধ্যে নিহিত। লিপস্টিক ক্রিম-ভিত্তিক হয় এবং ঠোঁটের ওপর সম্পূর্ণ কভারেজসহ একটি ক্রিমি ফিনিশিং দেয়। অন্যদিকে লিপ টিন্ট হয়ে থাকে পানি বা জেল-ভিত্তিক। 

ব্যক্তিগত পছন্দ এবং উপলক্ষ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে লিপস্টিক বা লিপ টিন্ট। 

কেউ যদি ঠোঁট দুটোকে মেকআপের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে তুলে ধরতে চান, তাহলে মেকআপ বা আউটফিটের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিকই তাঁর জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, ‘নো মেকআপ’ মেকআপ লুক পছন্দ করলে এবং ত্বকের ওপর সারাদিন স্থায়ী হবে এমন হালকা বিউটি প্রডাক্ট পরতে চাইলে লিপ টিন্ট মানানসই।