চুলের যত্নে ডিম-দইয়ের প্যাক, ঠিক না ভুল করছেন

চুলের যত্নে ডিম ও দইয়ের প্যাক অনেকের কাছেই প্রিয়। এই প্যাক সাধারণত চুলকে মসৃণ, ঝকঝকে এবং শক্তিশালী করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই ধারণা ভেঙে দিলেন সেলিব্রিটি হেয়ারস্টাইলিস্ট অমিত ঠাকুর। তিনি নীতা আম্বানির স্টাইলিস্ট।

আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে, প্রাকৃতিক উপাদানই চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। গৃহস্থালির রান্নাঘরে যেমন বিভিন্ন উপাদানে ভর্তি থাকে, তেমনি আমরা মনে করি এগুলোই চুলের জন্য সেরা সমাধান। তবে সেলিব্রিটি হেয়ারস্টাইলিস্ট অমিত ঠাকুর জানাচ্ছেন, ডিম এবং দইয়ের মিশ্রণ চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে আসলে দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব ফেলে না।

অমিত ঠাকুর জানান, ‘দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড চুলের পিএইচ ব্যাল্যান্সে সাহায্য করে। এটি সাময়িকভাবে কন্ডিশনিং করতে পারে। তবে এটি চুলের ক্ষতি বা ড্যামেজ ফেরাতে সক্ষম নয়। অন্যদিকে ডিমের প্রোটিন, ভিটামিন এবং ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের জন্য উপকারী হলেও, এটি চুলের শ্যাফটে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সাময়িকভাবে চুলে মসৃণতা আসলেও, এতে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আসবে না।

তাহলে কী করা উচিত

অমিত ঠাকুর পরামর্শ দিয়েছেন যে, এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত, যা প্রাকৃতিক উপাদান থেকে নেয়া সক্রিয় উপাদানগুলির সঠিক ফর্মুলেশনে তৈরি। এই ধরনের প্রোডাক্ট চুলে প্রবেশ করতে সক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদী উপকার দেয়। এছাড়া নিয়মিত হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে বা ১০ দিনে একবার পুষ্টিকর হেয়ার মাস্ক আপনার স্কাল্প এবং চুলের জন্য উপকারী হতে পারে।

যদি আপনার চুল রুক্ষ বা ফ্রিজি হয়ে থাকে, তবে আর্গান তেল, কোকোনাট তেল বা কাস্টর তেল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো চুলের ভিতর থেকে কাজ করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়, ভাঙন রোধ করে এবং চুলকে আরও সুস্থ রাখে। এভাবে প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত যত্ন চুলকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করবে।