চেহারায় বদল আনতে বা সাদাচুল ঢাকতেই হোক, চুলে রঙ করা এখন বেশ পরিচিত ট্রেন্ড। তবে রঙিন এই ফ্যাশনের পেছনে আছে অজানা অনেক বিপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘চুলের রঙে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান ত্বকে অ্যালার্জি, দাগ বা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণও হতে পারে। কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, চুলে রঙ করার আগে জানা জরুরি এর সম্ভাব্য ঝুঁকিও।
চুলে রঙ কতটা নিরাপদ?
এসএস স্পার্শ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পি নরেন্দ্র জানান, ‘বাজারে চুলের রঙ দুই ধরনের। একটি অক্সিডেটিভ (স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী) ও নন-অক্সিডেটিভ (অস্থায়ী)। যার মধ্যে স্থায়ী রঙে ব্যবহৃত কেমিক্যালই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো শুধু ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশই নয়, দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার বা অটোইমিউন রোগের কারণও হতে পারে।
চুলের রঙে থাকা প্যারা-ফেনাইলেনডায়ামিন (পিপিডি) নামের এক উপাদানকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে ধরা হয়। এটি ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। গলা, কপাল, কানের পাশে বা স্ক্যাল্পে জ্বালা-পোড়া, ফুসকুড়ি বা চুলকানির মতো সমস্যা হয়।
ডা. নরেন্দ্র বলেন, ‘অনেকেই নিয়মিত রঙ করেন, অথচ কখনও প্যাচ টেস্ট করেন না। এতে ধীরে ধীরে ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়, চুল পড়ে যায়, এমনকি টাক পর্যন্ত হতে পারে।’
ফ্যাকাসে হতে পারে ত্বক
অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপ অরোরা বলেন, ‘চুলের রঙে থাকা পিপিডি কোষের পিগমেন্ট তৈরি বন্ধ করে দিতে পারে। এতে কেমিক্যাল-ইন্ডিউসড ভিটিলিগো দেখা যায়। অর্থাৎ চামড়ার কিছু অংশ বা চুল হঠাৎ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।’
এই ধরনের ক্ষতি শুধুই বাইরের রূপে নয়, অনেক সময় শরীরেও প্রভাব ফেলে। অনেকেই মুখ, গলা বা চোখের চারপাশে ফোলাভাব অনুভব করেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো অ্যাঞ্জিওইডিমা। যেটা শ্বাসরোধ করে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
সতর্ক হোন, এই নিয়মগুলো মানুন
- রঙ লাগানোর আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
- ত্বকে যদি আগেও অ্যালার্জি বা চুল পড়ার সমস্যা থাকে, ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
- ঘন ঘন রঙ করা থেকে বিরত থাকুন।
- সম্ভব হলে অ্যামোনিয়া-মুক্ত বা প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করুন।
চুলে রঙ করলে আপনি অবশ্যই আরও স্টাইলিশ ও আত্মবিশ্বাসী দেখাতে পারেন। কিন্তু সৌন্দর্যের এই ফর্মুলা যেন আপনাকে বিপদে না ফেলে। সাবধান হোন, সচেতন হোন। তারপর রাঙিযে তুলুন চুল।