অনেকে বাজার থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহার করেন। এসব জেল সংরক্ষণযোগ্য করতে নানা ধরনের কেমিক্যাল মেশানো হয়। ফলে এগুলো দীর্ঘদিন ঠিক থাকে ঠিকই, কিন্তু সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা ফুসকুড়ির সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের মতে, প্রাকৃতিক অ্যালোভেরাই নিরাপদ। তাই গাছ থেকে কেটে সরাসরি পাতার ভেতরের নির্যাস মুখে লাগিয়ে থাকেন। কিন্তু অ্যালোভেরার পাতার ভেতরে থাকা এক উপাদানই ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অ্যালোভেরার বাইরের সবুজ স্তরের নিচে এক ধরনের হলুদ রঙের তরল বের হয়। যার নাম অ্যালোইন। এই অ্যালোইন অনেক সময় ত্বকে র্যাশ, লালচে দাগ, জ্বালা বা চুলকানি তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের জন্য এটি আরও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অ্যালোভেরা গাছ থেকে কেটে সরাসরি জেল লাগানো মোটেও ভালো নয়।
তাহলে কীভাবে নিরাপদ?
গাছ থেকে কেটেই লাগানো যাবে, তবে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এগুলো মেনে করলে আর সমস্যা হবে না। প্রথমেই একটি অ্যালোভেরা পাতা কেটে নিন। এরপর সেটি পানিভর্তি একটি পাত্রে ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে পাতার ভেতরের হলুদ পদার্থ বা অ্যালোইন ধুয়ে যাবে। তারপর পাতার খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের স্বচ্ছ জেল বের করে নিন। এই জেল পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ব্লেন্ডারে হালকা করে পেস্ট করে নিতে পারেন। এতে ব্যবহার আরও সহজ হবে।
এই সময় আপনি কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই অয়েল বা গোলাপজল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে জেলটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখবে এবং মুখে দেবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। চাইলে এই জেল ছোট বোতলে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে ২-৩ দিনের বেশি নয়। অনেকে এই জেল আইস কিউব বানিয়ে রাখেন, রোদে পোড়া বা ক্লান্ত ত্বকে ঘষে নিলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা অনুভূতি মেলে।
অ্যালোভেরা জেল শুধু মুখেই নয়, চুলের যত্নেও দারুণ কাজ করে। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে, খুশকি কমায় ও স্ক্যাল্প ঠান্ডা রাখে। তবে প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাত বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন, কোনো অ্যালার্জি হচ্ছে কি না।
অ্যালোভেরা নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক দান। যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ, এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। একটু সচেতনতা, একটু যত্ন। এ দুটিই পারে অ্যালোভেরাকে বানাতে আপনার ত্বকের সেরা বন্ধু।