পোশাকের মতো গয়না আর অনুষঙ্গও মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। তাই কর্মস্থলের গয়না আর অনুষঙ্গের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে পোশাক-আশাক নিয়ে খুব বেশি নিরীক্ষার সুযোগ নেই। ‘ফরমাল অ্যান্ড মিনিমালিস্টিক’-অফিসে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে এটাই হওয়া উচিত মূলভাব। এ ছাড়াও অফিসের গয়না বাছাইয়ে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত।
অফিসের সংস্কৃতি বোঝা
সবার আগে আপনাকে নিজের অফিস বা কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি বুঝতে হবে। কিছু অফিস কঠোর এবং রক্ষণশীল মনোভাব ধারণ করে, সেখানকার পোশাক এবং অন্যান্য সবকিছুতেই যা প্রকাশ পায়। আবার কোনো কোনো অফিসে কর্মীদের ইচ্ছামত পোশাক, অনুষঙ্গ পরার স্বাধীনতা রয়েছে। সহকর্মীদের লক্ষ্য করুন; তারা কী ধরণের অনুষঙ্গ বা অলংকার পরছেন সেসব খেয়াল করুন।
বাহুল্য নয়
মেকআপের ক্ষেত্রে একটি গোল্ডেন রুল রয়েছে-'লেস ইজ মোর'। অর্থাৎ বাড়াবাড়ির দরকার নেই, একটুখানিই যথেষ্ট। অফিসে অলংকার পরার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। খুব চকচকে কিছু না পরাই ভালো। সাধারণ চেইনের সাথে ছোট একটি পেনড্যান্ট, স্টাড ইয়াররিং, ঘড়ি আর একরঙা পাথরের আংটিতে দারুণ ছিমছাম আর অভিজাত লাগবে।
নিউট্রাল টোন নির্বাচন
রঙবেরঙের অলংকার দেখতে জম্পেশ লাগলেও অফিসের জন্য নিউট্রাল টোন সবচেয়ে মানানসই। সোনালি, রূপালি, মুক্তা বা হীরার গহনা মোটামুটি সব ধরনের পোশাকের সাথে মানায় এবং ব্যক্তিত্বে আভিজাত্যও যোগ করে। যদি আপনি উজ্জ্বল এবং রঙিন অনুষঙ্গ নির্বাচন করে থাকেন, খেয়াল রাখবেন তা যেন উগ্র এবং দৃষ্টিকটু না হয়, বরং পোশাকের ধরন এবং রঙের সাথে মানানসই হয়।
শব্দ নিয়ে সতর্ক
শব্দ হয় এমন কোনো অলংকার অফিসে পরা থেকে বিরত থাকা উচিত। অফিসে কাজের একটা আলাদা পরিবেশ থাকে, সেখানে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত থাকেন। এসময় অলংকারের টুংটাং অথবা হিল জুতার খটখটে শব্দ সহকর্মীদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এতে আপনি অন্যদের বিরক্তির কারণও হয়ে উঠবেন।
হাত থাকুক হালকা
প্রেজেন্টেশন হোক কিংবা মিটিং, অফিসের কাজে হাতের ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি। স্টাইলিশ ঘড়ি, ক্লাসিক আংটি, আর ডেলিকেট নকশার ব্রেসলেট হোক আভিজাত্য প্রকাশে আপনার অফিস লুকের অনুষঙ্গ। খুব ভারি এবং জবড়জং কোনো গহনা হাতে জড়াতে যাবেন না, যাদের কাজ কম্পিউটার ভিত্তিক, বা যাদের অফিসে প্রচুর লেখালেখি করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি নজর রাখা দরকার।
আরামে প্রাধান্য
সাধারণত কর্মজীবীদের দিনের তিনভাগের একভাগ সময় অফিসেই কাটে। আপনার পরা গয়না, অনুষঙ্গ কাজের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আরামদায়ক হওয়াটা তাই খুব জরুরি। সচরাচর পরে অভ্যস্ত নন, এমন কোনো কিছু অফিসে পরে আসার মতো ভুল করবেন না। কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পেছনে স্বস্তির পরিবেশ থাকা দরকার।
তথ্যসূত্র: ক্যারাটলেন (তানিষ্ক)