ফ্যাশন দুনিয়ায় সবসময় ট্রেন্ডি মুক্তার গয়না। সবচেয়ে প্রাচীন এবং প্রাকৃতিক এই রত্নে রয়েছে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। তাই তো মুক্তার গয়নার জনপ্রিয়তা কখনও ম্লান হয় না। হীরা, সোনা বা রুপার গয়নার পাশাপাশি সমানভাবে সমাদৃত মুক্তার গয়না। অন্য গয়নার তুলনায় মুক্তাতেই বেশি প্রকাশ পায় আভিজাত্য।
আপনার খুব সাধারণ সাজকেও অসাধারণ করে তুলতে পারে এই মুক্তার গয়না। যেকোনো বয়সে, যেকোনো পোশাকে সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যাবেন মুক্তার অনুষঙ্গ। তাই তো বলা হয়, মুক্তা ফ্যাশনের সে অনুষঙ্গ যা কখনো পুরনো হয় না। অলংকারের অন্যান্য অনুষঙ্গের মতো মুক্তা নিয়ে ততোটা নিরীক্ষা হয়নি।
তবু ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা এখন নানাভাবে মুক্তার আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিককালে যার দেখা মিলেছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের সাজে। আমাদের নানী-দাদীরা যেমনটি পরতেন, সেভাবেই মুক্তার গয়না পরার এই চল পরিচিতি পেয়েছে ‘গ্র্যান্ডমা পার্লস ট্রেন্ড’ নামে।
মার্জিত এবং রুচিশীল ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে আপনিও দাদী-নানী বা মায়ের সিন্দুক থেকে মুক্তার গয়না বের করে নিজের লুকবুকে যোগ করতে পারেন। বলিউড অভিনেত্রীদের কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন স্টাইলের কয়েকটি কায়দা।

কালো ভেলভেট শাড়ির সঙ্গে মুক্তার গয়নায় তাক লাগিয়েছেন আলিয়া ভাট। ভারতের তারকা ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জীর নকশা করা শাড়িটির আঁচল আর পাড়জুড়ে ছিল সোনালি জরির কাজ। আলুথালু খোপা আর মিনিমাল মেকআপ সত্ত্বেও আলিয়াকে রাজকীয় করে তোলে তাঁর ‘চয়েজ অব জুয়েলারি’।
কয়েক লহরের মুক্তার মালার সাথে বলিউড ডিভা পড়েছিলেন ম্যাচিং ইয়ার স্টাড; ঠোঁট রাঙিয়েছিলেন টকটকে লাল লিপস্টিকে।

চলতি বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় কিয়ারা আদভানির ডেবিউ লুকটি ছিল দেখার মতো। প্রবাল গুরুংয়ের নকশা করা সাদা রঙের এসিমেট্রিক্যাল (অপ্রতিসম) গাউনে ধরা দিয়েছিলেন কিয়ারা। পাঞ্জিং নেকলাইনের গাউনটির একপাশ স্লিভলেস হলেও অন্যপাশে ছিল পাফ স্লিভ।
সাদা পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুয়েলারিও পরেছিলেন ‘শেরশাহ’ অভিনেত্রী। মুক্তার লম্বাটে, প্যাঁচানো দুলের সঙ্গে যুগলবন্দী করে কিয়ারা হাতে গলান স্বর্ণের ব্রেসলেট।

বিটাউনের অন্যতম ফ্যাশন আইকন বলা হয় বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুরকে। গ্র্যান্ডমা পার্লস ট্রেন্ডের এর আবির্ভাবও বলা যায় এই ফ্যাশনিস্তার হাত ধরে। গত বছর তামারা র্যালফ কুচারের ব্ল্যাক পেপলাম আউটফিটের সাথে বিশাল বড় হ্যাটে হলিউডের রেট্রো লুক তৈরি করেন সোনম।
বড়সড় সিঙ্গেল-স্ট্র্যান্ড স্টেটমেন্ট নেকলেস, ম্যাচ করা ইয়ার স্টাড, আর বোল্ড রেড লিপে সোনমের এই সাজ প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র।

কান উৎসবে দীপিকার চমক থাকবেই! অফ হোয়াইট রাফল শাড়ির সাথে টিউব-লাইক ব্লাউজ পরে যেন দেবী রূপে সামনে আসেন ‘ওম শান্তি ওমের’ শান্তিপ্রিয়া! জমকালো ব্লাউজের পুরোটায় ছিল আলাদা কারুকাজ।
তবে এই লুকের গেমচেঞ্জার ছিল কাঁধজুড়ে থাকা কেপ স্টাইলের পার্ল-স্টাডেড নেকপিস। সাদা ইয়ার স্টাড, চিরচেনা স্মোকি আই ও স্লিক বানে সাজ সম্পূর্ণ করেন দীপিকা।

সাদা আর বেগুনি ছাপার লেহেঙ্গা চোলিতে একদম ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ লুকে এক প্রমোশনাল ইভেন্টে ধরা দেন জাহ্নবী কাপুর। মেকআপের কোনো বাড়াবাড়ি ছিল না, চুলগুলোও সফট কার্ল করে ছেড়ে রাখেন।
ছোট মটরদানার মতো কয়েক পরতে নকশা করা মুক্তার একটি চোকার পরেছিলেন সেদিন শ্রীদেবী কন্যা। চোকারের ঠিক মাঝ বরাবর ছিল সোনালী পেনড্যান্ট; কানের দুলেও চোখে পড়ে একই নকশা।
তথ্যসূত্র: পিংকভিলা


গাঢ় লাল থেকে স্টাইলিশ মনোক্রোম: মীরা কাপুরের ট্রাভেল ফ্যাশন
সোনাম কাপুরের মতো ফিট থাকতে চান? জানুন তাঁর ডায়েট চার্ট
