ক্লগ। একসময় উঁচু এই জুতা নিয়ে বেশ বিতর্কিত ছিল। এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় আবারও ফিরে এসেছে নতুনরূপে। অনেকেই এটি পছন্দ করছেন, আবার কেউ কেউ করছেন সমালোচনাও। তবে এখন আর বলা যাবে না যে, ক্লগ পুরোনো আর অপছন্দের জুতা। এটি এখন হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের বড় অংশ।
ক্লগের ইতিহাস অনেক পুরোনো। তবে প্রথম দিকে এটি অনেক বেশি সমালোচিত ছিল। ১৯ শতাব্দীতে বিখ্যাত ইংলিশ ফ্যাশন আইকন বেউ ব্রামেল (যিনি রিজেন্সি যুগের সবচেয়ে স্টাইলিশ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন) ক্লগের কাঠের সোলের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি একে খুবই ‘সাধারণ’ এবং ‘রুচি হীন ডিজাইন’ বলে মনে করতেন। তবে ১৯৭০-এর দশকে যখন সুইডিশ ব্যান্ড এবিবিএ ক্লগ বানাতে শুরু করেছিল, তখন এই জুতোটি স্টাইল সিগনেচার হয়ে ওঠে। এবিবিএ নিজেদের ক্লগের লাইনও লঞ্চ করেছিল। সেই সময় থেকেই ক্লগের ফ্যাশন শুরু।
আজকের দিনে ক্লগ আবার ফিরে এসেছে। এটি এখন আরও আধুনিক এবং ফ্যাশনেবল হয়ে উঠেছে। চলোয়ের ডিজাইনার চেমেনা কামালি বিশেষভাবে ক্লগের এই নতুন ডিজাইনের জন্য কৃতিত্ব পেতে পারেন। চলোয়ের বোহো শিক স্টাইলের কারণে ক্লগ আবার ফ্যাশনের দুনিয়ায় আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের শরৎ/শীত কালেকশনে চলোয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্লগ নিয়ে হাজির হয়। যা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
ক্লগ শুধু ফ্যাশন শোতে নয়, দেখা মিলছে রাস্তাতেও। সেলিব্রিটিদের তো বটেই, সাধারণ মানুষও এখন পরছেন ক্লগ। তাদের স্টাইলের সঙ্গে মানিয়ে পরছেন এই জুতা। যেমন- ফ্লোয়ি ড্রেসের সঙ্গে ক্লগ দারুণ মানিয়ে যায়। এছাড়াও অ্যাথলিজার পোশাকের সঙ্গে ক্লগ পরতে পারেন যে কেউ। বড় ব্র্যান্ড যেমন হর্মেস, মিউ মিউ, উল্লা জনসন, ইত্রো—সবাই ক্লগকে তাদের কালেকশনে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
যারা এই নতুন ট্রেন্ডে আসতে চান, তাদের জন্য ক্লাসিক কাঠের ক্লগ হতে পারে ভালো অপশন। তবে যারা ফ্যাশন নিয়ে কারো কথার তোয়াক্কা করেন না, তারা নানা রঙ ও ডিজাইনে ক্লগ পরতে পারেন। যা তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এখন আর ক্লগ পুরোনো আর বিশ্রী জুতো নয়। বরং এটি এখন একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ক্লগ পরা শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়। এটা একজন ব্যক্তির স্টাইল এবং সাহসিকতার পরিচায়কও।