ঈদে আমাদের বেশি পছন্দ ভারী কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, বড় ঝালরওয়ালা লেহেঙ্গা বা কড়া রঙের পোশাক। কিন্তু এসব পোশাক একবার পরার পর আর ঠিক তেমন কাজে আসে না। এবার তাই এমন কিছু বেছে নিতে পারেন, যেগুলো ঈদেও মানাবে, আবার অন্য সময়েও পরা যাবে।
চলুন, দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু আধুনিক ও মার্জিত পোশাক। যেগুলো আপনি ঈদের পাশাপাশি বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠানে পরতে পারেন।
কুর্তা সেট হবে আরামে স্টাইল
গরমের ঈদে পাতলা, হালকা কুর্তা সেট হতে পারে সেরা পছন্দ। লন, কটন বা মলমল কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ এই সময়ে আরাম দেয়। হাই স্লিট বা র্যাপ স্টাইল কুর্তি দেখতে যেমন ট্রেন্ডি, তেমনি আরামদায়কও। পেপলামের মতো কাট থাকলে তা বাড়তি স্টাইল এনে দেয়।
রঙের দিক থেকে আপনি হালকা প্যাস্টেল শেড যেমন পিচ, পুদিনা সবুজ বা হালকা নীল বেছে নিতে পারেন। ঈদের দিনটা পেরিয়ে এগুলো অফিস, টিউশন, ছোটখাটো দাওয়াতেও পরে নেওয়া যাবে অনায়াসে।
কাফতান আনে সাজে সহজতা
কাফতান এমন এক পোশাক, যেটা ঢিলেঢালা হওয়ায় অনেকেই আরাম বোধ করেন। ঈদের দিনের লম্বা সময় জুড়ে পরতে হলে কাফতানের মতো আরামদায়ক পোশাক খুবই কার্যকর।
যদি হালকা এমব্রয়ডারি থাকে বা গলায় মেটালিক কাজ করা থাকে, তাহলে তা একদম ঈদের উপযোগী হয়ে ওঠে। রঙ হিসেবে হালকা সোনালি, রূপালি টোন, বা ধূসর বেছে নিতে পারেন। এতে সাজে মার্জিত সৌন্দর্য আসে, বাড়তি ঝলক না দিয়েও।
শরারা দেবে উৎসবে ছন্দ
যারা একটু জমকালো সাজ পছন্দ করেন, তারা বেছে নিতে পারেন শরারা। নিচের দিকটা চওড়া বলে হাঁটাচলার সুবিধা হয়, আবার এতে উৎসবের আমেজটাও থাকে। শরারার সঙ্গে আপনি ছোট কুর্তি বা ক্রপ জ্যাকেট পরতে পারেন। এতে দেখতে আরও স্টাইলিশ লাগে।
রঙ হিসেবে বেছে নিতে পারেন সফট গোলাপি, অফ হোয়াইট বা জলপাই রঙ। ভারী কাজ না থাকলে পরেরবার অন্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরে নেওয়া যাবে সহজেই।
লং জ্যাকেট, এক পোশাকে দুই লুক
একটা সুন্দর কাটের লম্বা জ্যাকেট থাকলে অনেক পোশাককেই নতুনভাবে উপস্থাপন করা যায়। যদি জ্যাকেটে হালকা এমব্রয়ডারি বা প্রিন্ট থাকে, তাহলে সেটা একটা সাধারণ কুর্তার ওপর পরলেই সাজে একটা ফিনিশিং টাচ চলে আসে।
জ্যাকেটটা আপনি ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সঙ্গেও পরে নিতে পারেন। ঈদের পরেও যে কোনো গেট টুগেদার বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় এটা কাজ দেবে নতুন লুক হিসেবে।
বেল্টেড আনারকলি মানেই রাজকীয় আবার হালকা
আনারকলি পোশাকটা এমনিতেই অনেক মেয়ের পছন্দের তালিকায় থাকে। কোমরে বেল্ট থাকলে তা শরীরের গঠন সুন্দর দেখায়। ঈদের জন্য কটন সিল্ক, শিফন বা জর্জেট কাপড়ের বেল্টেড আনারকলি বেছে নিতে পারেন।
গলার কাছটায় বা যোক অংশে হালকা কাজ থাকলে সাজে উৎসবের ছোঁয়া থাকে। কিন্তু ভারী লাগে না। ঈদের পরেও বিয়ের নিমন্ত্রণ, জন্মদিন বা যেকোনো পার্টিতেও এটা পরে নেওয়া যায় অনায়াসে।
ঈদ মানেই যে ভারী কাজের, একবার পরেই রেখে দেওয়ার মতো জামা, তা নয়। একটু সচেতন হয়ে বেছে নিলে এমন পোশাকও কেনা যায়, যেটা বারবার পরে ব্যবহার করা যায়।
ফ্যাশন যদি হয় স্মার্ট ও মার্জিত, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে টেকসই। এই ঈদে তাই পোশাক হোক এমন, যেটা আপনার সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলবে। আবার ব্যবহারেও থাকবে বাস্তবতা।