স্টাইল মানে শুধু চোখধাঁধানো গ্ল্যামার নয়

স্টাইলের দুনিয়ায় আলিয়া ভাট যেন এক অনন্য নাম। কখনও ঝলমলে রেড কার্পেট লুকে। আবার কখনও হালকা সাজে। তিনি প্রমাণ করেছেন, স্টাইল মানে শুধু জাঁকজমক নয়। সম্প্রতি তিনি পরেছিলেন ৪৩১-৮৮ ব্র্যান্ডের এক কালো স্কাল্পটেড জাম্পস্যুট। যেখানে নেই কোনো অতিরিক্ত চাকচিক্য, আছে শুধু পরিমিত সৌন্দর্যের নিখুঁত ভারসাম্য।

করসেটধর্মী স্ট্র্যাপলেস উপরের অংশে ছিল নিখুঁত গঠন। আর নিচের অংশ কিছুটা ঢিলেঢালা কাপড়ের ড্রেপিং। প্রথম দেখায় খুব সাধারণ মনে হতে পারে। একটু খেয়ার করলেই বুঝবেন বক্ষরেখা ঘিরে রয়েছে সোনালি ডিটেইলিং। যা পোশাকটিকে দিয়েছে এক অলৌকিক দীপ্তি। সেই সোনালি রেখাগুলো যেন কোনো গয়না নয়, বরং কাপড়ের সঙ্গেই মিশে থাকা এক শিল্প।

জুতাতেও ছিল ক্লাসিক ছোঁয়া, কালো রঙের পয়েন্টেড টো জিমি চু হিল। পোশাকের সঙ্গে গয়নার বাড়াবাড়ি একদমই ছিল না। আলিয়া বেছে নিয়েছেন শুধু এক জোড়া সোনালি হুপ দুল আর কয়েকটি আংটি। পুরো লুকটিতে ফুটে উঠেছে ‘লেস ইজ মোর’-এর দর্শন। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, খুব সাধারণের মধ্যেও আছে এক অপ্রকাশ্য আভিজাত্য।

পোশাকের সাথে হালকা গয়না বরাবরই পছন্দ আলিয়ার। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

মেকআপে ছিল একেবারে ন্যাচারাল। ডিউই স্কিন, হালকা ব্লাশ, কোমল ভ্রু আর নিউড লিপস, সব মিলিয়ে সাজ ছিল খুব সাধারণ। যা তাকে দিয়েছে প্রশান্তি ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। আর চুল ছিল খোলা। আলিয়ার এই সাজে কোনো কৃত্রিমতা নেই। বরং আছে আত্মবিশ্বাসের কোমল দীপ্তি, যা তাকে আলাদা করে তোলে ভিড়ের মধ্যেও।

তবে আলিয়ার ফ্যাশন যাত্রা সবসময়ই নানা বৈচিত্র্যে ভরা। কয়েক সপ্তাহ আগেই আলোচনায় ছিলেন কম দামের একটি পোশাকের জন্য। সামার অ্যাওয়ে ব্র্যান্ডের ফ্লোরাল ম্যাক্সি ড্রেস, দাম মাত্র ৬ হাজার ২৯০ রুপি। মা সোনি রাজদান আর বোন শাহিন ভাটের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি পরেছিলেন সেই পোশাকটি। নীল-সাদা ওয়াটারকালার স্টাইলে ফুলেল প্রিন্টের ওই ম্যাক্সি ড্রেসে আলিয়া যেন হয়ে উঠেছিলেন প্রশান্তির প্রতীক। একেবারে আরামদায়ক অথচ রুচিশীল এক উপস্থিতি।

ডিউই স্কিন, হালকা ব্লাশ, কোমল ভ্রু আর নিউড লিপস, সব মিলিয়ে সাজ ছিল খুব সাধারণ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

আর মেট গালার কথা কীভাবে ভোলা যায়! ২০২৪ সালে তিনি যখন সব্যসাচী মুখার্জির তৈরি সেই অসাধারণ শাড়ি পরে লাল গালিচায় পা রাখেন। তখনই যেন থেমে গিয়েছিল ক্যামেরার ক্লিক। থিম ছিল ‘দ্য গার্ডেন অব টাইম’, আর আলিয়ার পরনের শাড়িতে ফুটে উঠেছিল সময়ের সেই শৈল্পিক যাত্রা। রেশমি সুতায় সূক্ষ্ম কারুকাজ, মুক্তা ও সিকুইনের সাথে মূল্যবান পাথর ও কাঁচের ফ্রিঞ্জে সাজানো সেই পোশাকে ছিল ২৩ ফুট লম্বা এক ট্রেন। যা তাকে সেদিনের আসরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল।

আলিয়ার ফ্যাশন-দর্শন আসলে একধরনের নীরব আত্মবিশ্বাসের কথা বলে। তার সাজে নেই বাড়াবাড়ি, নেই কৃত্রিমতা। আছে কেবল এক আত্মমুগ্ধ প্রশান্তি। তিনি যেন প্রতিবারই মনে করিয়ে দেন, স্টাইল মানে শুধু চোখে পড়া নয়। বরং এমন এক অনুভূতি যা চোখের পরেও রয়ে যায় মনে।

এই নীরব সৌন্দর্যের মধ্যেই আলিয়া ভাটের জাদু। যেখানে পোশাক হয় ব্যক্তিত্বের সম্প্রসারণ, আর সৌন্দর্য হয় এক শান্ত সংলাপ।