প্যারিসের লুভ্র মিউজিয়ামে আয়োজিত ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন ডিনার’-এ ঝলমলে উপস্থিতিতে নজর কাড়লেন ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা জিসু। ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড কার্তিয়েরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি পরেছিলেন এক রাজকীয় নেকলেস। যাতে বসানো ছিল বিরল ও অত্যন্ত মূল্যবান সিলন নীলা পাথর।
সিলন নীলা পাথর। যাকে অনেকে শ্রীলঙ্কান নীলা নামেও চেনেন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও অপূর্ব রত্নগুলোর একটি। এই রত্ন কেবলমাত্র শ্রীলঙ্কাতেই পাওয়া যায়। যা একসময় সিলন নামে পরিচিত ছিল।
সোথেবির তথ্য অনুযায়ী, ‘শ্রীলঙ্কার এই অঞ্চলে পাওয়া নীলা পাথরগুলোর রঙ গাঢ় নীল। হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে নীলা পাথরকে ঘিরে নানা পৌরাণিক বিশ্বাস গড়ে উঠেছে। আজও অনেকে বিশ্বাস করেন, নীলা মনোসংযোগ ও মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সেই সাথে উদ্বেগ ও হতাশা কমায়। আর সম্পর্কের প্রতি বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসা জাগায়।’
এই নীলা পাথর সারা বিশ্বেই দুষ্প্রাপ্য ও অত্যন্ত জনপ্রিয়। শ্রীলঙ্কার রত্নাপুরা অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রত্নখনি হিসেবে পরিচিত, এলাকাটিকে বলা হয় ‘সিটি অফ জেমস’।
সিলন নীলা সাধারণত নীল বিভিন্ন শেডে পাওয়া যায়। নীল রঙের পাশাপাশি রয়েছে গোলাপি, হলুদ, সবুজ, বেগুনি ও কমলা। এর মধ্যে গোলাপি সিলন নীলাও বেশ জনপ্রিয়।

প্যারিসের এই লুভ্র ফ্যাশন ডিনারে তারকাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো অনুষ্ঠানস্থল। সেই ভিড়ের মধ্যেই জিসুর উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন। তিনি পরেছিলেন অফ-শোল্ডার কালো গাউন, যার মিষ্টি হার্ট–শেপ বডিস ডিজাইনটিতে ফুটে উঠেছিল রাজকীয় শৈলী। তবে সবার চোখ আটকে যায় তাঁর গলায় ঝলমলে কার্তিয়ের নেকলেসটিতে।
জিসু পরেছিলেন পঁতের দ্য কার্তিয়ে নেকলেস। যা প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করে লুভ্রের এই বিশেষ ডিনার অনুষ্ঠানে। কার্তিয়েরের ভাষায়, ‘নেচার সোভাজ হাই জুয়েলারি কালেকশনের এই অনন্য সৃষ্টি এক কাল্পনিক অরণ্যে প্যান্থারের উপস্থিতি ফুটিয়ে তোলে। সেখানে এক বিশাল ২৬.৫৩ ক্যারেটের সিলন নীলা পাথরের ওপর নজর রাখছে এই রাণিসুলভ বিড়াল।’
জিসুর এই সাজ প্রমাণ করে, ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়। বরং এটি ঐতিহ্য, শিল্প আর ইতিহাসের মেলবন্ধনও হতে পারে। লুভ্রের আলোয় ঝলমল করে জিসু যেন আবার মনে করিয়ে দিলেন, রূপের আসল জেল্লা লুকিয়ে থাকে তার উপস্থাপনায়।


গলায় ১০৯ ক্যারেটের বুলগারি নেকলেস, প্রিয়াঙ্কার রাজকীয় আবির্ভাব
২৫ বছর পুরোনো মায়ের গয়না পরে অনুষ্ঠানে ইশা আম্বানি
