বাড়িতেই বানাতে পারবেন শরবতে মহব্বত, রইল রেসিপি

রমজানে বেশ জনপ্রিয় শরবতে মহব্বত। এটি আসলে এক ধরণের মিষ্টি ও সুস্বাদু গোলাপ-দুধের শরবত। এই পানীয়র সুনির্দিষ্ট কোনো ইতিহাস নেই বললেই চলে। তবে এটি উত্তর ভারতের দিল্লি ও লক্ষ্ণৌ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। ধারণা করা হয়, মুঘল আমল থেকে বিভিন্ন ধরণের শরবতের প্রচলন শুরু হয়, সেখান থেকেই এই শরবতের আবির্ভাব।

শরবতে মহব্বত সম্ভবত ২০শ শতকের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে উত্তর ভারতে জনপ্রিয়তা পায়। তবে দিল্লির পুরান বাজার ও রাস্তার খাবারের দোকানগুলোতে এই শরবত বানাতে দেখা যায়। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও এটি জনপ্রিয়তা পায়। এটি হয়ে ওঠে রমজানের ইফতারের বিশেষ পানীয়।

শরবতের মধ্যে তরমুজ কিউব দিতে হবে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

ইতিহাস মতে, মুঘল আমলে দুধ, গোলাপ জল, রুহ-আফজা এবং ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরণের শরবত বানানো হতো। শরবতে মহব্বত তারই আধুনিক রূপ হতে পারে। পরবর্তীতে দিল্লির মতই পুরান ঢাকার খাবার সংস্কৃতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুড ব্লগার ও ইউটিউবারদের প্রচারণায় এটি নতুন করে আলোচিত হয়। এখন এটি শুধু ভারত, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে! আপনি বাড়িতেই এখন বানাতে পারেন জনপ্রিয় এই পানীয়। রইল রেসিপি।

উপকরণ: দুধ ১ লিটার, চিনি ৩-৪ টেবিল চামচ (স্বাদ অনুযায়ী), গোলাপ সিরাপ (রুহ-আফজা) ১/২ কাপ, সাবুদানা (চাইলে দিতে পারেন) ২ টেবিল চামচ (ভেজানো ও সেদ্ধ), তরমুজ ১ কাপ (ছোট কিউব করে কাটা), বেসিল সিডস বা তোকমা ১ টেবিল চামচ (পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নিতে হবে), এবং বরফ কুচি পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে দুধ একবার জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে (চিলারে) রেখে দিন। কিছুটা ঠান্ডা হলে একটি বড় জগে নিন। তাতে চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন, যেন চিনি গলে যায়। তারপর গোলাপ সিরাপ বা রুহ-আফজা যোগ করুন। আবার ভালোভাবে মেশান। ভিজিয়ে রাখা বেসিল সিডস বা তোকমা এবং সেদ্ধ সাবুদানা শরবতে দিয়ে দিন।

এবার তরমুজের ছোট কিউব কেটে শরবতে মেশান। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে বরফ কুচি যোগ করুন। কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন এবং পরিবেশন করুন। গ্লাসে ঢেলে উপরে তরমুজের টুকরো ও কিছু তোকমা ছিটিয়ে দিন। ঠান্ডা ঠান্ডা শরবতে মহব্বত উপভোগ করুন।