একদমই কথা শুনছে না সন্তান। তার বেয়াড়া আচরণ বা অবাধ্যতা বাবা-মায়ের কাছে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আজকের সময়ের বাচ্চারা অনেক বেশি সংবেদনশীল। তারা প্রশ্ন করতে ভালোবাসে, আবার নিজের মতো করে সিদ্ধান্তও নিতে চায়। এ সময় যদি তারা বাবা-মায়ের কথা না শোনে বা জেদ করে, অনেক অভিভাবকরা রেগে গিয়ে গায়ে হাত তোলেন। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অভ্যাস সন্তানের মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। যা পরবর্তীতে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শিশু মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক শাস্তি বা অতিরিক্ত বকাঝকা করলে সন্তানের মধ্যে ভয়, হীনমন্যতা ও প্রতিবাদী মনোভাব তৈরি হয়। শুরুতে হয়তো মনে হবে সে শোনে, কিন্তু আসলে শিশুটি কেবল ভয় পেয়ে চুপ করে যায়। সেই ভয়ই পরবর্তী সময়ে রাগ বা একগুঁয়েমিতে রূপ নেয়। ছোটবেলায় যে ভয় চেপে রাখে, বড় হয়ে তা আচরণে প্রকাশ পায়।
ধৈর্য ধরুন, রাগ নয়
শিশু অবাধ্য হলে প্রথমেই যা করা দরকার, তা হলো নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ। সন্তানকে সামলানোর আগে নিজেকে শান্ত করা সবচেয়ে জরুরি। রাগের মাথায় শাসন করতে গেলে তা সহজেই শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির দিকে যেতে পারে। এমনকি বাবা–মায়ের প্রতি সন্তানের বিশ্বাসও নষ্ট হতে পারে। তাই রাগ হলে প্রথমে নিজেকে কিছু সময় দিন। তারপর শান্তভাবে শিশুকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
শাস্তির বিকল্প পদ্ধতি
সব সময় বকাঝকা বা মারধরের প্রয়োজন হয় না। বরং ‘ন্যাচারাল কনসিকোয়েন্স’ বা স্বাভাবিক ফল ভোগ করার সুযোগ দিন। যেমন, সন্তান যদি খেতে না চায়, তবে কিছু সময় তাকে না খাইয়ে রাখুন। খিদে পেলে সে নিজেই বুঝবে তার ভুল। এতে আপনি কঠোর শাস্তি না দিয়েও সঠিক শিক্ষা দিতে পারবেন।
কারণ জানার চেষ্টা করুন
শিশু কেন জেদ করছে বা আচরণে পরিবর্তন আনছে, সেটি বোঝা খুব জরুরি। হতে পারে স্কুলে কোনো সমস্যা হয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা চলছে। কিংবা কোনো ভয় বা অস্বস্তি তাকে প্রভাবিত করছে। শান্তভাবে কথা বললে সে মনের কথা বলতে পারবে। শুনে নিন, তারপর বুঝিয়ে বলুন। এতে শিশুটি অনুভব করবে যে বাবা-মা তার পাশে আছেন, শত্রু নন।
খেলায় খেলায় শিক্ষা দিন
শিশুকে উপদেশ দিলে সে তা ভুলে যেতে পারে। কিন্তু খেলার মাধ্যমে শেখালে মনে থাকে দীর্ঘদিন। গল্প, ছবি বা রোল প্লের মাধ্যমে তাকে ভদ্রতা, সম্মানবোধ, দায়িত্ববোধ শেখান। যেমন, খেলায় ‘ভালো আচরণ করলে পুরস্কার’ রাখলে সে শেখার আগ্রহ পায়।
সম্পর্ক রাখুন ভালোবাসার
মারধর বা চিৎকারে সন্তান হয়তো কিছু সময়ের জন্য থেমে যাবে। কিন্তু বাবা–মায়ের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হবে। শিশুকে বোঝাতে হবে, ভুল করলে তার ফল আছে, কিন্তু ভালোবাসা কখনও কমে না। সেই ভালোবাসার ভরসাতেই সে নিজেকে ঠিক পথে আনবে।