সিঙ্গাপুরে গেলে যেসব কাজ করা যাবে না

প্রতিটি দেশের আলাদা আইন, নিয়ম এবং প্রবিধান রয়েছে। এক দেশে যা ছোটখাট ভুল, সেটিই হয়ত অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে দণ্ডনীয় অপরাধ।

সিঙ্গাপুরের কথাই ধরুন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ হয়েও এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে সিঙ্গাপুর। অর্থনৈতিক র‍্যাংকিংয়েও প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে সিঙ্গাপুর।

অথচ এই দেশটিতেই এমন অদ্ভুত কিছু রীতি আর আইন রয়েছে যা শুনে আপনার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।

বলা হয়ে থাক, যখন তুমি রোমে তখন তুমি রোমান। দেশটিতে কখনো যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে জেনে নিতে পারেন রীতিগুলো সম্পর্কে, নইলে গুনতে হতে পারে আক্কেল সেলামি। 

পাবলিক প্লেসে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিঙ্গাপুর সরকার বদ্ধপরিকর। তাই পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের পর কেউ যদি ফ্লাশ করতে ভুলে যান, তাহলে তার জন্য অপেক্ষা করছে বড় অঙ্কের জরিমানা। আসলে বেখেয়াল মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এমন কঠোর সাজা দিয়ে থাকে দেশটি।  

কেউ যদি টয়লেট ব্যবহারের পর ফ্লাশ না করে, তার ওপর ১৫০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার জরিমানা আরোপ হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১৩ হাজার টাকা। যেসব পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণের উদ্দেশে যাবেন তাদেরকে তাই পাবলিক টয়লেট ভালোভাবে ফ্লাশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয়। যত্রতত্র থুথু ফেলা, পোশাকবিহীন ঘোরাফেরা এবং ‘আনসিকিউরড’ ওয়াইফাই সংযোগে যুক্ত হলেও রয়েছে জরিমানার ব্যবস্থা। বিপদ এড়াতে ভ্রমণকারীদের তাই অবশ্যই দেশটির নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে। 

এর বাইরেও সিঙ্গাপুরে রয়েছে চুইংগামে নিষেধাজ্ঞা। তবে চিকিৎসার গুণাগুণ সম্পর্কিত চুইংগাম চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিক্রি করা যেতে পারে। কোনো রকম বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে কাউকে বিরক্ত করাও সেখানে অবৈধ। আবার ঘুড়ি ওড়ানোয় যদি ট্রাফিকে কোনোপ্রকার প্রভাব খাটানো হয়, তাহলেও রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা। 

সিঙ্গাপুরে গেলে আপনি পায়রা-কবুতরকে বেঁচে যাওয়া খাবার দিতে পারবেন না। আবার দেয়ালে গ্রাফিতি অংকন এবং প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করলেও দিতে হতে পারে জরিমানা।  

তথ্যসূত্র: নিউজ এইটিন