শীত যেন ঘোরাঘুরির জন্য ঠিকঠাক একটা সময়। এই সময়টাকে মাথায় রেখে এরই মধ্যে পরিকল্পনা সাজিয়ে বসেছেন অনেকেই। কারণ শহরেও পড়তে শুরু করেছে শীতের ছোঁয়া। বলতে গেলে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি, পুরোটাই ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়। দেশের ভেতর এই সময় কোথায় যেতে পারেন জেনে নিন। সেই অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলুন আপনার পরিকল্পনা।
জেনে নিন শীতকালে বেড়াতে যাওয়ার জনপ্রিয় পাঁচ স্থান সম্পর্কে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত: শুধু শীতেই নয়, যেকোনো সময় ঢাকার বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলো মধ্যে অন্যতম কক্সবাজার। শীতকালেও বেছে নিতে পারেন এই জায়গাটি। সাগরের ঢেউয়ের বিশালতায় হারিয়ে যেতে চাইলে কক্সবাজার বেড়াতে আসার জুড়ি নেই। এছাড়া মেরিন ড্রাইভের সুবিশাল রাস্তা কক্সবাজারে যোগ করেছে ভ্রমণের বাড়তি আকর্ষণ। লাবনী ও সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও মেরিন ড্রাইভের রাস্তা ধরে টেকনাফের দিকে আগালে দেখা পাওয়া যাবে হিমছড়ি, ইনানি, শামলাপুর ও হাজামপাড়ার। সিএনজি কিংবা লোকাল গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন রামুতে। সেখানে দেখা মিলবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সুন্দর কিছু প্যাগোডা বা মন্দির।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ: দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ঘোরার সঠিক সময় শীতকাল। সমুদ্রপথ এই সময় ভ্রমণ অনুকূলে থাকে। তাই প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এখানে ছুটে আসেন শীতেই। টেকনাফ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের কোলে সেন্টমার্টিনের অবস্থান। সৈকতের কোল ঘেঁষে সারি সারি নারিকেলের গাছ, নীল জলরাশি আর প্রবাল পাথরের অপরূপ দৃশ্য দেশের অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। তাই পুরো দ্বীপটি যেন বৈচিত্র্যতার খনি।
সাজেক ভ্যালি: রাঙ্গামাটির ছাদ খ্যাত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮’শ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটিতে হলেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে এখানে যাওয়া অনেক সহজ। চারপাশে সারি সারি পাহাড় আর তুলোর মতো সাদা মেঘ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে একই দিনে তিন রকম রূপ দেখতে পাবেন। আর শীতের এই সময়টাতে মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে চারপাশ। আপনার মুহূর্তের মধ্যে মনে হতে পারে, আপনি মেঘের রাজ্যে বসে আছেন।
শ্রীমঙ্গল: চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল শীতকালে ভ্রমণের জন্য দারুণ এক জায়গা। চা বাগানের বাংলোতে বসে চা গাছে ঘিরে থাকা পরিবেশে শীতের হিম হাওয়া মেখে গরম চায়ের পেয়ালা হাতে বসে থাকা অদ্ভুত রোমাঞ্চের জন্ম দেয়। বনপ্রেমিদেরও হতাস হওয়ার কারণ নেই। বাইক্কা বিলের পাখির অভয়াশ্রম কিংবা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে জীববৈচিত্র দেখতে দেখতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না।
সুন্দরবন: শুধু পাহাড় কিংবা সমুদ্র নয়। শীতকালে ঘোরার জন্য বনভূমিও আলাদাভাবে সৌন্দর্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। প্রায় ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি ওয়াইল্ড লাইফ প্রেমীদের কাছে যেন এক স্বর্গের নাম। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, কুমির, বানর সহ নানা বৈচিত্র্যময় প্রাণীকুলের দেখা মিলে। ৩৩০ প্রজাতির ছোট বড় গাছের সাম্রাজ্য এই সুন্দরবনে কটকা, কচিখালী, হিরনপয়েন্ট, কোকিলমণি, দুবলার চর, পুটনি দ্বীপ ও মান্দার বাড়িয়াসহ নানান দর্শনীয় জায়গা রয়েছে। লঞ্চে করে গহীন বনে ভ্রমণ, গা ছমছমে এলাকায় বাঘের খোঁজে ভয়ে ভয়ে মাটিতে পা রাখা নিশ্চিতভাবে আপনার ভ্রমণে বাড়তি অ্যাডভেঞ্চারের যোগান দিবে।