শীতে সবাই কমবেশি ঘুরতে পছন্দ করেন। আর এই সময়টায় ঘোরাঘুরির মোক্ষম স্থান পাহাড় বা সমুদ্র। কারণ শীতে হুটহাট বৃষ্টির দেখা মেলে না বললেই চলে। আবার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় শীত কিছুটা কম থাকে। ছোটখাটো একটা ব্যাগ গুছিয়ে একা বা বন্ধুরা মিলে তাই বেরিয়ে যেতেই পারেন।
তবে সঙ্গে মা, বাবা, দাদা-দাদী বা অন্য কোনো প্রবীণ সদস্য থাকলে তাদের নিয়ে যাত্রা করতে উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কোন বিষয়গুলো আগে থেকে দেখে রাখবেন জেনে রাখুন।
- যেকোনো ভ্রমণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বেড়াতে যাওয়ার দুয়েকদিন আগে থেকেই বয়স্ক সদস্যদের খাওয়াদাওয়ায় বিশেষ নজর দিন। হার্টের রোগী, হাইপারটেনশনের রোগী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে।
- যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন না বিমানবন্দরে পৌঁছে যাবেন। বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে চেক-ইন, সিকিউরিটি ইত্যাদির জন্য সময় লাগে। এতে করে শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি এড়ানো যাবে।
- ভ্রমণের সময় বয়স্ক সদস্যদের পোশাকের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। তাদের পোশাক যেন নরম ও আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দীর্ঘ যাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারবেন, এমন পোশাক দরকার। জুতাও আরামদায়ক পরতে হবে, যাতে হাঁটতে সমস্যা না হয়।
- অনেক এয়ারলাইনস প্রবীণ নাগরিকদের কিছু বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। বিমানে বিশেষ আসনও থাকে। বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময়ে এবং বিমানে উঠেই কেবিন ক্রুকে বয়স্ক সদস্যের ব্যাপারে অবগত করতে হবে।
- বয়স্কেরা যে সব ওষুধপত্র খান, সেগুলো আলাদা করে হ্যান্ড ব্যাগে নিতে হবে। হার্টের রোগী হলে জরুরি অবস্থার জন্য যে সব ওষুধ প্রয়োজন, তা সঙ্গে রাখতে হবে। ইনহেলার অবশ্যই রাখবেন। ওষুধের সঙ্গে আরও রাখুন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, রোগীর রিপোর্ট।
- ট্রেন, লঞ্চে যাত্রার সময় বাড়ির খাবার বা শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন।
- বেড়াতে গিয়ে একতলা বা দোতলা কোনও রুমে থাকতে চেষ্টা করুন; কারণ বয়স্ক সদস্যরা সব সময় লিফট এবং সিঁড়ি ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ নন। বেড়াতে বেরোলেও যাতে তাদের উপর বেশি ধকল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। তাড়াতাড়ি হোটেলে ফিরতে চেষ্টা করুন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, বয়স্কদের সঙ্গে ঘুরতে গেলে ধৈর্য হারালে চলবে না। তাঁরা হয়তো কিছুক্ষণ হাঁটার পরই ক্লান্ত বোধ করবেন। এতে কখনোই রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করা চলবে না। ট্রেন, লঞ্চ, বা বিমানের শৌচাগার ব্যবহারের সময়ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সমস্যা হতে পারে। ধৈর্য নিয়ে তাদের এসব শেখাতে হবে।