সবার কাছেই ঈদ মানে যেন শৈশবের স্মৃতি মাখা। বয়স যত বাড়তে থাকে, ঈদের আনন্দগুলো যেন ততই মলিন হতে শুরু করে। তবে শিশুদের ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলতে পারে সঠিক জায়গায় তাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া। রাজধানীতে এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে ঈদের ছুটিতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে ছোটদের।
ঈদের সময়ে রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণ চিড়িয়াখানা। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঈদের সময় দর্শনার্থীর ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাঘ, সিংহ, হরিণ, কুমিরসহ নানা প্রাণী দেখে শিশুরা যেমন আনন্দ পাবে, তেমনি শেখার সুযোগও হবে।
ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক জায়গায় যেতে চাইলে স্বাধীনতা জাদুঘর হতে পারে ভালো একটি গন্তব্য। ঈদের পরদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এটি। এখানে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে।
পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লাও হতে পারে শিশুদের জন্য দারুণ একটি জায়গা। মোগল আমলের এই দুর্গটি ইতিহাসের এক জীবন্ত নিদর্শন। কেল্লার সদর দরজা দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়বে পরী বিবির মাজার। এছাড়া এখানে রয়েছে দরবার হল, নবাবের হাম্মামখানা, শাহী মসজিদ ও একটি জাদুঘর। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।
নদীর ধারে খোলা বাতাসে সময় কাটাতে চাইলে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে ঘুরতে যাওয়া যেতে পারে। শানবাঁধানো ঘাটের পাশে নৌকা বাঁধা থাকে, যা দেখে শিশুরা বেশ আনন্দ পাবে। চাইলে নৌকায় চড়েও ঘুরে দেখা যেতে পারে চারপাশ। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, শ্যামপুরে সাত একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই ইকোপার্ক।
ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে চাইলে শিশুদের নিয়ে যাওয়া যেতে পারে আহসান মঞ্জিলে। ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদ ঢাকার নবাবদের বাসভবন ছিল, যা এখন জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা থাকায় সহজেই এখানে যাওয়া যেতে পারে।
শিশুরা যদি আধুনিক বিনোদন পছন্দ করে, তবে বাবুল্যান্ড হতে পারে আদর্শ স্থান। নারায়ণগঞ্জ, উত্তরা, বাড্ডা, ওয়ারী, শেওড়াপাড়া, মিরপুরসহ সর্বমোট ১১টি শাখায় রয়েছে এই শিশু বিনোদনকেন্দ্র। ঈদের দিন থেকে ঈদের চতুর্থ দিন পর্যন্ত এখানে বিশেষ আয়োজন থাকছে, যার মধ্যে রয়েছে ঈদ পাপেট শো, ড্যাশিং রোবট, ম্যাজিক্যাল ফেইরি টেইল, ঈদ ব্লাস্টসহ আরও নানা আকর্ষণীয় ইভেন্ট। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাবুল্যান্ড খোলা থাকবে।
ঈদের ছুটিতে শিশুদের নিয়ে স্বল্প বাজেটে কোথাও ঘুরতে চাইলে সামরিক জাদুঘরও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত এই জাদুঘরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর ইতিহাস, ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও পরদিন থেকে এটি খোলা থাকবে।
শিশুদের বিনোদনের জন্য আরও একটি জনপ্রিয় স্থান হলো টগি ফান ওয়ার্ল্ড। পান্থপথের বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত এই ইনডোর গেমিং জোনে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও গেমিং অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ভার্চুয়াল গেমগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে, যা শিশুদের জন্য দারুণ আকর্ষণীয় হতে পারে।
ঈদের ছুটিকে আরও উপভোগ্য করতে শিশুদের নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া হতে পারে দারুণ একটি পরিকল্পনা। রাজধানীর এসব জায়গা যেমন বিনোদনমূলক, তেমনি শিক্ষামূলকও। ঈদের আনন্দকে আরও রঙিন করতে পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বেড়িয়ে পড়তে পারেন শহরের নানা বিনোদনকেন্দ্রে।