লম্বা ছুটি মানেই ঘোরাঘুরির বাড়তি সুযোগ। এবারের ঈদের ছুটিও বেশ লম্বা। তাই অনেকেই দেশ-বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে বেড়াতে গেলে খরচের হিসাবটাও মাথায় রাখতে হয়। বাজেটের মধ্যে থেকে ঘোরাঘুরি করতে চাইলে কিছু কৌশল জেনে রাখা ভালো।
দামি খাবার নয়, স্থানীয় স্বাদে ভরসা
ভ্রমণে নতুন জায়গার খাবার চেখে দেখাটা আনন্দের অংশ। তবে ব্যয়বহুল রেস্তোরাঁর বদলে সাধারণ বা স্থানীয় খাবারের দোকান বেছে নিলে খরচ অনেকটাই কমে যায়। ব্যয়বহুল অ্যাপেটাইজার এড়িয়ে চলুন এবং এমন খাবার বেছে নিন, যা দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগতে দেয় না। জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানের আশপাশে খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি হয়, তাই একটু দূরে গিয়ে খেতে পারলে বাজেট বাঁচবে।
সঙ্গে রাখুন শুকনা খাবার
ট্রিপের সময় ব্যাগে কিছু শুকনা খাবার রাখলে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলেও বাড়তি খরচ করতে হবে না। বিশেষ করে বিদেশে গেলে এসব খাবার নিয়ে গেলে ভিন্ন মুদ্রায় ব্যয় কমে আসে। এছাড়া দূরবর্তী বা তুলনামূলক কম পরিচিত জায়গায় গেলে খাবার পাওয়া কঠিন হতে পারে, তাই নিজের সঙ্গে কিছু খাবার রাখা সুবিধাজনক।
প্যাকেজ অফারে সচেতন থাকুন
অনেক রিসোর্ট বা হোটেল থাকা ও খাবার মিলিয়ে ‘কম্বো প্যাকেজ’ দেয়। কিন্তু সেখানে থাকা খাবার সব সময় আপনার পছন্দের নাও হতে পারে। যদি বাইরে খাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে প্যাকেজ নেওয়ার আগে দুইবার ভাবুন। প্রয়োজনে শুধু থাকার খরচ দিন, খাবার আলাদা কিনুন। এতে খরচের চাপ কমবে।
যাতায়াতে স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিন
ভ্রমণের জন্য কম খরচের রুট ও বাহন বেছে নিলে বাজেট বাঁচবে। বিদেশে গেলে তুলনামূলক কম ব্যস্ত বিমানবন্দর বেছে নেওয়া, কম খরচের ফ্লাইট বুক করা বা মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব। দেশেও ঘুরতে গেলে ভাড়ায় গাড়ি নেওয়ার চেয়ে ট্রেন, বাস বা স্থানীয় পরিবহন বেছে নেওয়া বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
উপহার কেনায় ব্যয়ের লাগাম টানুন
ভ্রমণের সময় আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের জন্য উপহার কেনার প্রবণতা থাকে। তবে দামি দোকানের বদলে স্থানীয় বাজার থেকে কিনলে খরচ অনেকটাই কমে আসবে। স্থানীয়দের তৈরি হস্তশিল্প বা ছোটখাটো স্যুভেনির কিনলে অর্থও সাশ্রয় হবে, আবার সৃজনশীল উপহারও দেওয়া যাবে।
জনপ্রিয় পর্যটন স্থান এড়িয়ে চলুন
সাধারণত জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর খরচ বেশি হয়। অনেক সময় একই ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা ঐতিহাসিক স্থান কম পরিচিত জায়গায় পাওয়া যায়, যেখানে থাকা, খাওয়া এবং ঘোরাঘুরির খরচ অনেক কম। ভিড় এড়ানো যায় বলে এসব জায়গায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্যেও ঘোরা যায়। কম খরচে বেশি সময় উপভোগ করা যায়।
অফার খুঁজে নিন
ভ্রমণের খরচ কমানোর অন্যতম সহজ উপায় হলো ডিসকাউন্ট বা কুপন ব্যবহার করা। ফ্লাইট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা ট্যুর বুক করার আগে অনলাইনে ডিসকাউন্ট খুঁজুন। অনেক ট্রাভেল ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়, যা আগে থেকে বুকিং দিলে কাজে লাগানো সম্ভব। অনেকে ‘বুক অ্যাডভান্সড, পে লেস’ অফার দেয়, যা দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রিপ প্ল্যান করা যায়।
স্থানীয়দের পরামর্শ নিন
কোনো নতুন জায়গায় গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলুন। তারা জানে কোথায় কম খরচে ভালো খাবার, সাশ্রয়ী যানবাহন বা থাকার জায়গা পাওয়া যায়। গুগল সার্চ বা গাইডবুকের চেয়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনেক সময় বেশি কার্যকরী হয়।
নিজে ঘুরে দেখুন, গাইড নির্ভরতা নয়
ট্যুর গাইড বা পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে ভ্রমণ করলে বাড়তি খরচ হতে পারে। সম্ভব হলে নিজেই রিসার্চ করে প্ল্যান করুন এবং স্বাধীনভাবে ঘোরার চেষ্টা করুন। অনেক জায়গায় ওয়াকিং ট্যুর বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে খরচ কমানো যায়। স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে আগেই অনলাইনে তথ্য জেনে গেলে গাইডের প্রয়োজন হয় না।
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন
ভ্রমণের সময় অনেকেই না ভেবেই কেনাকাটা করে ফেলেন, যা বাজেট বাড়িয়ে দেয়। কেনাকাটার আগে ঠিক করুন কোন কোন জিনিস সত্যিই প্রয়োজনীয়। যা যা কিনতে চান, তার একটি তালিকা করুন এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু দেখলেই কেনার লোভ সামলান। ট্যুরিস্ট মার্কেটে অনেক জিনিস উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, তাই কেনার আগে দরদাম করুন।
ভ্রমণের আনন্দের সঙ্গে খরচের হিসাব রাখাটাও জরুরি। একটু সতর্ক থাকলেই অযথা ব্যয় এড়ানো সম্ভব। পরিকল্পনা করে বেড়াতে গেলে বাজেটের মধ্যে থেকেই ঈদের ছুটি উপভোগ করা যাবে।