সাকিবের অবসর নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে এক সপ্তাহের মধ্যে

গত অক্টোবরের পর থকে জাতীয় দলের বাইরে সাকিব আল হাসান। শুধু কি জাতীয় দলের বাইরে? গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের ঘটনার পর তো দেশের মাটিতেই পা রাখতে পারেননি বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। চিটাগং কিংসে তাঁকে দলে রাখলেও খেলতে পারছেন না চলমান বিপিএলে।

মাঠের খেলায় না থাকলেও নিয়মিত সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন তিনি। গত শুক্রবার মিরপুরে প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও সাকিবকে দলে ফেরানো নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।

বিসিবি সভাপতির সে আশার বাণী শুধু আশা হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিবকে খেলতে দেখা যাবে, সেটা নিশ্চিত হতে যাচ্ছে এক সপ্তাহের মধ্যেই। নির্দিষ্ট করে বললে, আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যেই জানা যাবে, সাকিব এরইমধ্যে দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলেছেন কিনা।  

তা ১২ জানুয়ারি-ই কেন? পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসির চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাথমিক দল জমা দেওয়ার শেষ দিন ১২ জানুয়ারি। প্রাথমিক দল জমা দেওয়ার পরেও দলে পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ পর্যন্ত। সেদিন আইসিসি দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে।

সাকিব অবশ্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে কানপুর টেস্টের আগে বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, সংক্ষিপ্ত সংস্করণে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা খেলেছেন গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সে সময় টেস্ট থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব। ৩৭ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার জানিয়েছিলেন, অক্টোবরে ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লাল বলে ইতি টানবেন ক্যারিয়ার।

‘খেলোয়াড়’ সাকিবের এ ইচ্ছে অবশ্য পূরণ হয়নি ‘রাজনীতিবিদ’ সাকিব পরিচয়ের কারণে। আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জেরে অন্যান্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাকিবের নামেও যুক্ত হয় একাধিক মামলা। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সাকিবের দেশে ফেরা। এমনকি দেশের পথে বিমান ধরেও মাঝপথে এসে আবার ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই কানপুর টেস্টেই থেমে যায় সাকিবের লাল বলের ক্যারিয়ার।

তখন থেকেই প্রশ্নটা উঠতে থাকে, জাতীয় দলে কি আর দেখা যাবে সাকিবকে? টি-টোয়েন্টি ও টেস্টকে বিদায় বললেও এখনো ওয়ানডে থেকে অবসর নেননি বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। এর আগে অনেকবার অবসরের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার ইচ্ছেটা জানিয়েছেন সাকিব।

সে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাথমিক দল ঘোষণার শেষ দিন  আগামী ১২ জানুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে পাঠানো বাংলাদেশ দলে যদি সাকিবকে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তাহলে এটা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে, আন্তর্জাতিক অধ্যায় এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের। সেটা হলে ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটাই শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে হয়ে থাকবে সাকিবের।

আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে থাকলে? তাহলে এ টুর্নামেন্টেই শেষবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন সাকিব।

দলে ডাক পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকুক আর না থাকুক, এক সপ্তাহের মধ্যেই যে সাকিবের অবসরের দিনক্ষণ  নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে, সেটা অন্তত নিশ্চিত।