গত পরশু রোববার প্রথম যখন দুর্বার রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কট করে বসলেন, তখন কঠোর অবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু। এর আগেও দলটির দেশি ক্রিকেটাররা একদিন অনুশীলন বয়কট করেছিলেন বেতন ইস্যুতে।
বিসিবি তখন সেটা সামলে নিয়েছিল, তবে বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একটু বেশি কড়া অবস্থান নিবে বলেছিল বোর্ড। কারণ মিঠু বলেছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজির কাজে বিপিএলের সুনাম নষ্ট হওয়া তারা মেনে নেবেন না।
গতকাল গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে দুজন বিদেশিকে নামাতে পেরেছিল রাজশাহী। তাতে মনে হয়েছিল, আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে বিসিবি। তবে দেশের বা বিসিবির ভাবমূর্তি রক্ষার কাজে সফল হতে পারেনি তারা। বেতন বকেয়া রাখার জন্য বিপিএলকে ধুয়ে দিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটার অ্যাসোসিয়েশনের (ডাব্লিউসিএ) প্রধান নির্বাহী টম মোফ্যাট।
মোফ্যাট বলেছেন, খেলোয়াড়দের টাকা না দেওয়ার অপরাধ বারবার করে বিপিএল। মোফ্যাট যখন এই মন্তব্য করেছেন, তখনো দেশি ক্রিকেটারদের চেক বাউন্সের খবর আসেনি। মজার ব্যাপার, গত রোববার দলটির অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ রসিকতা করেছিলেন, তাদের চেকগুলো উইকেটের মতো বাউন্স না করলেই খুশি হবেন।
সেদিনই পরিচালক ইফতিখার রহমান বলেছিলেন, তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু সে ব্যবস্থা কী, সেটা এখনো জানান যায়নি। এবং রাজশাহীর মালিক শফিক রহমানের দেওয়া চেক আজ আবার বাউন্স হয়েছে।
এদিকে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সঙ্গে কথোপকথনে মোফ্যাট বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটারদের বেতন না দেওয়ার ব্যাপারটা হতাশাজনক। বেশ কয়েক বছর ধরে ওরা বারবার এটা করছে। এটা অগ্রহণযোগ্য, পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে না কোনোভাবেই, খেলোয়াড়রা এসব ইভেন্টের আকর্ষণ, কিন্তু তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
মোফ্যাটের কথা, এমন কিছুর দায় বিপিএলকে নিতে হবে, ‘যেসব লিগ বৈধ, সেখানে চুক্তিতে মৌলিক সুরক্ষা এবং ন্যূনতম মান থাকবে, এবং সে চুক্তি আইনিভাবে প্রযজ্য হবে, এটুকু আশা তো করতে পারে।’
বিপিএলের প্রথম দুই আসরেও বেতন বকেয়া রাখার সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছিল। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজির বকেয়া শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই পরিশোধ করতে হয়েছিল। সে সঙ্গে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের ইস্যু মিলিয়ে প্রথম দুই মৌসুমের পর এক বছর বন্ধও ছিল বিপিএল।