‘বিসিবি কাউন্সিলরদের হোটেলে গোপনে রাখা হয়েছে, প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম’

বিসিবি নির্বাচন যেন বলিউডের ওয়েব সিরিজকেও হার মানাবে। থ্রিলার গল্প বললেও ভুল হবে না। আর এক দিন পরেই বিসিবি নির্বাচন, এর আগে গুরুতর অভিযোগ করেছেন বিসিবির পরিচালক পদের প্রার্থী হাসিবুল আলম। বিসিবির একাধিক কাউন্সিলরদের ঢাকার একটি হোটেলে গোপনে রাখা হয়েছে অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এই কাউন্সিলর। 

বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হবেন। ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০ পরিচালকের মধ্যে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৬ জন। ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচন হবে কেবল ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে।

রাজশাহী বিভাগের ১ জন পরিচালক পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ৩ জন। যাদের একজন হলেন হাসিবুল আলম। আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসিবুল তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ভোটারদের (কাউন্সিলরদের) ঢাকার একটি হোটেলে গোপনে রাখার অভিযোগ করেছেন। 

গুরুতর এই অভিযোগ এনে হাসিবুল বলেন, ‘আমাকে একটি বিদেশি নাম্বার থেকে ফোন দেওয়া হলো, জানানো হলো রাজশাহীর কাউন্সিলররা ঢাকার ইউনিক রিজেন্সি হোটেলে আছেন। বলা হলো, তারা ৮টি রুমে আছেন। এমনকি প্রার্থীসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা ৬০৩ নম্বর রুমে আছেন বলেও জানানো হয়। আমি নিজে যাইনি, একজন প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলাম। যাওয়া মাত্রই ওখানকার কাউন্টারে নিশ্চিত করা হলো যে ওই প্রার্থী সেখানেই উঠেছেন।’

এই ব্যাপারে তিনি পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘এরপর আমি বনানী থানার ডিসির কাছে গিয়েছিলাম অভিযোগ করতে। আমার জেলার কাউন্সিলরদের এভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থার চেয়ে ওই হোটেলে তাদের উপস্থিতি আছে কি না তা নিশ্চিত করে জানানোর কথা জানিয়েছেন। আমি একটু পর হয়তো তার সঙ্গে যোগাযোগ করব সবশেষ খবর জানতে।’

বিসিবির পরিচালক পদের প্রার্থী হাসিবুল আলম।

ভোটারদের খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি গত ২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন হাসিবুল, ‘গত ২ অক্টোবর আমি নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছি। আমার ভোটারদের খুঁজে পাচ্ছি না, ভোট চাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। আমি মনে করি মুখলেছুর রহমানের (এই ক্যাটেগরির আরেক প্রার্থী) মনোনয়নপত্র বাতিল করা উচিত। তিনি যেভাবে ভোট করছেন, তা পুরোপুরি অবৈধ। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব কাউন্সিলর প্রলোভনে পা দিয়েছেন, তাদের কাউন্সিলরশিপও বাতিল করতে হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে হাসিবুল বিসিবির নির্বাচনে প্রহসন হচ্ছে অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এই প্রার্থী, ‘যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে বিসিবি নির্বাচনের মান আরও খারাপ হবে। আগের নির্বাচনের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি এখন চোখে পড়ছে। সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না, বরং এটা প্রহসনের নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি মনে করছি এই প্রক্রিয়ায় ভালো কোনো ফল আসবে না। ফলে আমি স্বেচ্ছায় নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালাম। আর অংশগ্রহণ করব না।’

বিসিবি নির্বাচন থেকে আজ আরও একজন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ক্যাটাগরি-২ থেকে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আসন্ন বিসিবি নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলাম। তবে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সবাইকে জানাব, কেন এবং কি কারণে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।’ 

এর আগে গত বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তামিম ইকবালসহ মোট ১৬ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন।