বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন দাবি করে প্রায় অর্ধশত ক্লাব আজ প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। যেখানে ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘বিসিবি নির্বাচনে নোংরামির বিরুদ্ধে ক্লাব, সংগঠক ও কাউন্সিলরদের প্রতিবাদ’। ব্যানারের লেখাতেই প্রতিবাদের ভাষা স্পষ্ট। ক্লাবের প্রতিনিধিরা আজ সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের তিন দফা দাবি মানা না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটসহ আসন্ন কোনো ধরনের ক্রিকেটে তারা অংশ নেবেন না।
আগামীকালের মধ্যে তিন দফা দাবি না মানা হলে বাংলাদেশের সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার ক্লাবগুলো। আজ শনিবার ‘বিসিবি নির্বাচনে নোংরামির বিরুদ্ধে ক্লাব, সংগঠক ও কাউন্সিলরদের প্রতিবাদ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বিসিবি নির্বাচনে মোহামেডান ক্লাবের কাউন্সিলর মাসুদউজ্জামান।
ক্লাবগুলোর এমন সিদ্ধান্তের সূত্রপাত মূলত সেই ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ বাতিলের পর থেকেই। এই ঘটনার পর থেকে একে একে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।

এমনকি আজ বিসিবির একাধিক কাউন্সিলরদের ঢাকার একটি হোটেলে গোপনে রাখা হয়েছে অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হাসিবুল আলম।
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে যখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তখনই ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে বিসিবিকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের দাবী তুলে ধরেন ঢাকার বিভিন্ন লিগের ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা।
লিখিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়-
১. বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সময় বৃদ্ধি করে সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
২. অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
৩. বর্তমান তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণা করে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করা
মোহামেডান ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ৪৮টি ক্লাব এই দাবির পক্ষে আছে।
‘কেন এই দাবি’ শিরোনামে লিখিত বক্তব্যের একটি অংশে নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তারা-
১. জেলা-বিভাগ থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের তালিকায় সরকারি হস্তক্ষেপ
২. ক্লাব ক্যাটেগরির মনোনয়নপত্র জমাদানকারীদের বেশির ভাগেরই নির্বাচন বর্জন করা।
৩. বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই কাউন্সিলরদের যোগ্যতার ক্যাটেগরি নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসকদের কাছে বিসিবি সভাপতির চিঠি প্রধান করা
৪. নির্ধারিত সময়ের পরও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ গ্রহণ করায় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা
৫. ১৫ ক্লাবের ভোটাধিকার রদ করা, অথচ রিটকারী সভাপতির সময়েই ক্লাবগুলি সবশেষ লিগে অংশ নিয়েছিল
৬. দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলরদের আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ।
লিখিত সেই বক্তব্যের শেষে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত নির্বাচনের নীলনকশা বাতিল না করলে কোনো ক্লাব আসন্ন মৌসুমে কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলবে না। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। কাউন্সিলর তালিকা নিরপেক্ষভাবে করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর), মাসুদউজ্জামানসহ একাধিক সংগঠক। সাংবাদিকদের প্রশ্নে মাসুদউজ্জামান জানান তারা দুয়ার খোলা রেখেছেন, যাতে আলোচনার মাধ্যমে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়।


‘বিসিবি কাউন্সিলরদের হোটেলে গোপনে রাখা হয়েছে, প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম’
