চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯১ টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৪২টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৩টি, ধর্ষণ ও হত্যার ২টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ৫ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত 'মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন ফেব্রুয়ারি, ২০২৪' এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজ এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠায় এমএসএফ। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমএসএফ এর পক্ষ থেকে প্রতি মাসে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতারোধে দেশে আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে উল্লেখ্য ধর্ষণের শিকার ৪২ জনের মধ্যে ১৩ জন শিশু, ১৬ জন কিশোরী রয়েছে। অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ জন কিশোরী, ১১ জন নারী। এ ছাড়া হত্যার শিকার হয়েছে ১ জন শিশু ও ১ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ১১টি, যৌন হয়রানি ৩২টি ও শারীরিক নির্যাতনের ৩১টি ঘটনা ঘটেছে। এ সময়কালে ১জন শিশু, ১৫ জন কিশোরী ও ৪৭ জন নারীসহ মোট ৬৩ জন আত্মহত্যা করেন।
এ ছাড়া অ্যাসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন নারী। এ মাসে ২ জন কিশোরী ও ২ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়াও ফেব্রুয়ারি মাসে ১১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৭৬ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ২৫ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন। চলিত মাসে ২ জন গৃহকর্মী বহুতল ভবন থেকে পড়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে ওরাং সম্প্রদায়ের কিশোরী প্রীতি ওরাং এর মৃত্যুতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে। এ মাসে ধর্ষণের ৩টি ও ধর্ষণের চেষ্টার ১টি ঘটনায় সমাজপতিরা আপস করেন। তারা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বেআইনিভাবে সালিশে মীমাংসার সিদ্ধান্ত দেন।