২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যা গত বছরের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় ১১টি কম। জানুয়ারিতে ধর্ষণের ঘটনা ৩১টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৪টি, ধর্ষণ ও হত্যার ২টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত 'মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন জানুয়ারি, ২০২৪' এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠায় এমএসএফ। এমএসএফ এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি মাসে দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন: ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, আত্মহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতা বিশেষ করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বিগত মাসগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হলেও তা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তা অপরাধ প্রতিরোধে দৃশ্যমান ছিল না।
জানুয়ারিতে ধর্ষণের শিকার ৩১ জনের মধ্যে ৮ জন শিশু, ১৪ জন কিশোরী ছিল। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন কিশোরী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে ২ জন শিশু। ধর্ষণের চেষ্টা ১৩টি, যৌন হয়রানি ১৬টি, শারীরিক নির্যাতনের ২৪টি ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ২ জন শিশু, ২৩ জন কিশোরী ও ৩৪ জন নারীসহ মোট ৫৯ জন আত্মহত্যা করেছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন শিশু ও ৩ জন নারী। অপরদিকে ২ জন শিশু, ২ জন কিশোরী ও ২ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া জানুয়ারি মাসে ১ জন শিশু, ২ জন কিশোরী ও ৫ জন নারী অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৮৬ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৩৩ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন। গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে।
এ ছাড়া জানুয়ারি মাসে ৭ জন মৃত ও ৩ জন জীবিত সহ মোট ১০ জন নবজাতক শিশুকে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা অমানবিক ও নিন্দনীয়।


নভেম্বর মাসে নির্যাতনের শিকার ৩০৬ নারী ও শিশু : এমএসএফ
চলতি বছরেই ৫১২ নারীর আত্মহত্যা
