নেপালে হড়কা বান, ৩০ সেকেন্ডেই ভেসে গেল সেতু

নেপালে প্রবল পাহাড়ি ঢলে চোখের পলকে তলিয়ে গেছে সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এ ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই কাদাগোলা ঢল এসে একটি সেতুটি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

বুধবার সকালে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রাসুওয়া জেলায় এই আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ আছেন প্রায় ৪০০ মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই পর্যটক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, তিব্বত থেকে আসা ভোটে কোশি নদী নেপালের ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। পরবর্তীতে এটি গণ্ডক নদী নামে ভারতে প্রবেশ করে। এই নদীর প্রবল ঢল রাসুওয়া সীমান্ত ক্রসিংয়ের তিমুরে বাজার এলাকায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

নেপালের গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার সহ-সভাপতি চামেলি গুরুং জানিয়েছেন, শ্যাফরুবেসি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সল্লেটার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খাল্টি বস্তি, সোলে, ত্রিশূলী ও বাটারসহ প্রায় ডজনখানেক জনপদ এই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নানা ভিডিওতে কাদাগোলা পানির তোড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো ও বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সেতুর মধ্যভাগ ভেঙে পানিতে ভেসে যাচ্ছে।

কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি বাস দাঁড়িয়ে আছে এবং এগুলোর চাকা পানির নিচে। অনেককেই নিজেদের স্বজনদের খুঁজতে দেখা গেছে ভিডিওগুলোতে।

নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের তিমুরে মোতায়েন থাকা পুলিশের ৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন।

নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খাসহ ত্রিশূলী নদী অববাহিকার আশেপাশের এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে নেপাল পুলিশ।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও জানি না, তবে বন্যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। অনেক জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমরা নদীর পারের অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করেছি। আমাদের সমস্ত সম্পদ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত।’

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌর প্রকল্পসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দুর্যোগের কারণে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।’