নেপালে তিব্বত সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের হড়কা বানে বেশ কয়েকটি গ্রাম ও অবকাঠামো প্রকল্প ভেসে গেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই শতাধিক বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ বহু মানুষ।
বুধবার স্থানীয় সময় সকালে চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে হঠাৎ বড় ধরনের একটি হড়কা বান রাসুয়া জেলায় ভোটে কোশি নদীতে প্রবেশ করে। এতে নেপালের বাগমতি প্রদেশের সীমান্তবর্তী পার্বত্য রসুয়া জেলার একাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভোটে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর ১০৫ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ড (এনটিবি) এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্রমণ সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।
নেপালি গণমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ একই প্রদেশেরে উজানে চিতওয়ান জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর মুগলিন পর্যন্ত উচ্চ সতর্কতা জারি করে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের উচুঁ এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হড়কা বানে রসুয়ার তিমুর ও স্যাব্রুবেসি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে জানায়, তিব্বতের দিক থেকে ভোটে কোশি নদী দিয়ে একটি বড় ধরনের হড়কা বান প্রবেশ করেছে বলে তারা খবর পেয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে উদ্ধার ও ত্রাণ দলের পাশাপাশি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও পাঠানো হয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সাবধান ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



