ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ৫ হাজার রকেট হামলা চালায় স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি স্বশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ ইসরায়েলি নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলায় হামাসের বিশেষ বাহিনী ‘নুখবা’ নেতৃত্ব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই বাহিনী কাদের নিয়ে গঠিত, কতটা শক্তিমালী?
নুখবা হচ্ছে হামাসের একটি এলিট বাহিনী। দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা এতে যুক্ত থাকেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, অতর্কিত হামলা, অভিযান ও টানেল দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত অণুপ্রবেশে এঁরা বেশ পারদর্শী। এবার ইসরায়েলে রকেট হামলায় এসব কৌশলই ব্যবহার করেছে হামাস।
নুখবা বাহিনীর যোদ্ধারা ট্যাংকবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেও বিশেষ পারদর্শী। এ ছাড়া তাঁরা রকেট ও স্নাইপার দিয়েও যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুশিবিরকে থমকে দিতে পারেন। এদের মধ্যে কমান্ডো সিস্টেমও রয়েছে বলে জানা যায়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস বৃহস্পতিবার বলেন, ২০০৭ সালে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে গাজা শহর থেকে গাজা উপত্যকার অন্যান্য অঞ্চলে প্রসারিত ভূগর্ভস্থ টানেলের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। আর এসব টানেল দিয়েই সব কার্যক্রম চালান নুখবা বাহিনীর সদস্যরা।
এবার ইসরায়েলে হামলায় এসব সুড়ঙ্গই কাজে লাগিয়েছে নুখবা বাহিনী। এ কারণে গাজা উপত্যকার এসব সুড়ঙ্গ ধ্বংস করে দিতে চায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
স্থলপথে গাজায় প্রবেশ করে এসব টানেল বন্ধ করে দিতে চায় ইসরায়েল। তবে এখনো গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেনি সেনারা। এ ব্যাপারে পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রিচার্ড হেকট বৃহস্পতিবার জানান, নির্দেশ পাওয়ামাত্রই কাজে নেমে যাবেন সেনারা।
এদিকে ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে সেখানে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ইসরায়েলে আমি যে বার্তাটি নিয়ে এসেছি, তা হলো, আপনারা হয়তো নিজেদের রক্ষায় যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে যত দিন আমেরিকা আছে, তত দিন একা লড়তে হবে না।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘যাঁরাই শান্তি ও ন্যায়বিচার চান, তাঁদের অবশ্যই হামাসের সন্ত্রাসের নিন্দা জানাতে হবে।’