এটি আমাদের কাজ নয়, রাইসির মৃত্যু নিয়ে বলল ইসরায়েল

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির নিহতের ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। চারদিকে যখন রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত বলে গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পেছনে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। এ কাজ আমাদের নয়।’

গত রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন ইব্রাহিম রাইসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারা। পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে পাহাড়ি এলাকায় প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির–আব্দুল্লাহিয়ান, ছয়জন কর্মকর্তা ও একজন ক্রু নিহত হন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। কারণ ইরান সরাসরি গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সমর্থন দিয়েছে। এ ছাড়া ইরান–সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ গত মাসে প্রকাশ্য হয়ে পড়ে যখন ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসফানে ইসরায়েলও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এসব কারণে ভূরাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে, ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে। তবে গতকাল এমন আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাইসিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে কী কারণে তাঁর হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলো, সেটিও অনুমান করতে পারছি না।’ 

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতেন রাইসি। তিনি এমন ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর হাতে বহু মানুষের রক্ত লেগে ছিল। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংস কার্যকলাপের জন্য আমেরিকা ইরানকে অভিযুক্ত করা অব্যাহত রাখবে।’

আরও পড়ুন: