রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

প্রেসিডেন্ট রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি। কমিটির প্রধান হিসেবে উপ–সেনাপ্রধান জেনারেল আলী আবদুল্লাহিকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরির নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি নিহত প্রেসিডেন্ট রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করছে।

এদিকে এই তদন্তে সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি সের্গেই শোইগু বলেছেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় তেহরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত মস্কো।’

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাইসির নিহতের ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি ছিলেন রাশিয়ার সত্যিকারের বন্ধু।

গত রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন ইব্রাহিম রাইসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারা। পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে পাহাড়ি এলাকায় প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির–আব্দুল্লাহিয়ান, ছয়জন কর্মকর্তা ও একজন ক্রু নিহত হন।

ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি। এ ছাড়া ইরানের প্রিয় জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। রাইসির মৃত্যুতে ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, পাকিস্তানও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাজা আজ মঙ্গলবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল বুধবার রাইসির মরদেহ ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোম-এ নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে রাইসি পড়াশোনা করেছেন। 

কোমে দ্বিতীয় জানাজা শেষে, তাঁদের মরদেহ রাজধানী তেহরানে আনা হবে। রাজধানীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁদের জন্য জানাজা নামাজে ইমামতি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এরপর বৃহস্পতিবার রাইসিকে ইমাম রেজার মাজারে দাফনের জন্য তাঁর নিজ শহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে।

আরও পড়ুন: