লিবিয়ার বন্যায় এত মৃত্যুর কারণ কী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:৩৬ এএম

গত সোমবার রাতটি লিবিয়ার দেরনাবাসীর জন্য বিভিষীকার মতো ছিল। সবাই তখন ঘুমে, রাত তিনটার মতো বাজে, হঠাৎ বিকট শব্দে ভেঙে যায় শহররক্ষা বাঁধটি। তারপর পাহাড়ি ঢলের মতো প্রবল বন্যায় ভেসে যায় দেরনাসহ উপকূলীয় শহরগুলো।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, প্রলয়ংকরী এ বন্যায় শুধু দেরনাতেই ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েলের তাণ্ডব ও বন্যায় লিবিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে ১০ হাজার ১০০ মানুষ। 

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেরনা। সেখানে অন্তত ১ লাখ মানুষ বাস করতেন। বন্যার পর অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে এ পরিসংখ্যান সিএনএন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রসের তথ্যমতে, প্রায় ৭ মিটার উঁচু ঢেউয়ের তোড়ে বহু ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী ঝড়, বহুদিনের পুরোনো বাঁধ, দুর্বল অবকাঠামো ও পূর্ব সতর্কতা না থাকায় এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে।

 বহু বছরের পুরোনো বাঁধ, দুর্বল অবকাঠামো ও পূর্ব সতর্কতা না থাকায় এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। ছবি: রয়টার্স ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়

গত রোববার ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল আঘাত হানে লিবিয়ায়। উপকূলীয় অঞ্চল দেরনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪১৪ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বিপর্যয়কর ও প্রাণঘাতি ঝড়-বৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের হাইড্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক হান্না ক্লোক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়গুলো আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।’

লিবিয়ায় আরও যত বন্যা

দেরনা আগে থেকেই একটি বন্যাপ্রবণ এলাকা। তবে এবারের বন্যা অতীতের রেকর্ডগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। লিবিয়ার সেবহা বিশ্বিবদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, ১৯৪২ সালের পর থেকে বন্যারোধী বাঁধ ভেঙে অন্তত পাঁচটি মারাত্মক বন্যা হয়েছে। সর্বশেষ বন্যাটি ছিল ২০১১ সালে।

গত সোমবার যে দুটি বাঁধ ভেঙ গেছে, সেগুলো অন্তত ৫০ বছর আগের। একটি ১৯৭৩ সালে এবং অন্যটি ১৯৭৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। দেরনা শহরের ডেপুটি মেয়র আহমেদ মাদ্রৌদ কতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ২০০২ সালের পর এই বাঁধগুলো আর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্বিবদ্যালয়ের ক্লাইমেট রিস্কস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্সের অধ্যাপক লিজ স্টিফেনস সিএনএনকে বলেন, ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত মোকাবিলায় বাঁধগুলো সংস্কার করা হয়েছিল কিনা, সে ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বাঁধগুলো ভেঙে না গেলে এত প্রাণহানি ঘটত না।

সতর্কতার অভাব

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের প্রধান পেটেরি তালাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সময়মতো সতর্কতা গ্রহণ করলে দেরনায় বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা এড়াতে যেত। যদি একটি আবহাওয়া পরিষেবা থাকত, তবে তারা সতর্কতা জারি করত এবং জরুরীভিত্তিতে জনগণকে সরিয়ে নিতে পারত। তাহলে এত হতাহতের ঘটনা ঘটত না।’

পেটেরি তালাস আরও বলেন, বন্যারোধী বাঁধগুলো আরও উন্নত করার জন্য লিবিয়া সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিল ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। কিন্তু দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাজ্যের রিডিং ইউনিভার্সিটর অধ্যাপক হান্না ক্লোক বলেন, অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য আমাদের অবশ্যই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিতে হবে।

একবার কল্পনা করুনতো— একদিকে আফ্রিকা মহাদেশ পুড়ছে তীব্র গরমে, অন্যদিকে ব্রাজিলে ডুবে যাচ্ছে পুরো এক শহর। আর এই দুটো ঘটনার পেছনে একটিই কারণ। বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন— ‘সুপার এল নিনো’। তারা এও বলছেন,...
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা দেখতে দেখতে ৭৫০ ছাড়িয়ে গেল, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। আর তিব্বতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে আসল আতঙ্ক এখন অন্য...
সাধারণত নদী-নালার পানি বাড়ে ধীরে ধীরে। দিন কিংবা সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেয়, মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সময় পায়। কিন্তু একবার চিন্তা করুন তো, মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে একটি শুকিয়ে...
আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় দুই হাজার মানুষ (১ হাজার ৯২৪ জন)। এমন সংকটের মূহর্তে বিদেশি বাহিনীকে উদ্ধারকাজে অনুমতি দিচ্ছিল না দেশটি। কিন্তু শেষমেশ...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর