জলবায়ুর পরিবর্তনে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ, প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ যা করছে

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৭:১২ পিএম
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী কোনটা? এমন প্রশ্ন করা হলে সবার মনে হয়তো আসবে বাঘ, সিংহ বা হাতিসহ বিভিন্ন  শক্তিশালী প্রাণির নাম। তবে, আপনি কি জানেন মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণিটি হলো মশা। হ্যাঁ, আপনি ঠিক পড়ছেন। এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীটি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এর এক কামড় হতে পারে প্রাণঘাতী। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে মশার।

এডিস ইজিপ্টি এমন একটি মশা, যা ডেঙ্গু জ্বর বা হলুদ/পীত জ্বর এবং অন্যান্য রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। মশাটির পায়ে সাদা চিহ্ন আছে। এর কামড়ে জ্বালা হয় বেশ। যদি এটি ফ্ল্যাভিভাইরাস প্যাথোজেন নামের জীবাণু বহন করে, তবে তার কামড়ের শিকার ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে সংক্রমিত হতে পারে। আর সংক্রমিত ব্যক্তিদের অনেকে কোনো লক্ষণ ছাড়াই মারা যায়। কিন্তু কিছু দুর্ভাগ্যজনক সংক্রমিত ব্যক্তির ‘ব্রেকবোন ফিভার’ হয়, যার ফলে জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, রক্তক্ষরণ এবং মাঝে মাঝে মৃত্যু ঘটে। এই জ্বরের পরবর্তী প্রভাব খুব কমই বোঝা যায়, যেমন: ক্লান্তি ও দুর্বলতা ।

বিশ্বজুড়ে এডিস মশা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন মনে করছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীজুড়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২০০০ সালে প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। আর এ বছর কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর বিপরীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলছে, ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ৩০ শতাংশ কমেছে।

ভয়ানক জ্বর ও জ্বর পরবর্তী প্রভাবগুলো ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় বাধা। আর এই জ্বর পরবর্তী সমস্যাগুলোই মৃত্যুর চেয়ে অনেক বেশি হারে বেড়েছে। জাতিসংঘের একটি শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুসারে, ডেঙ্গুর এই প্রভাব ল্যাটিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ল্যাটিন আমেরিকায় বছরে গড়ে ৫ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে। যা ২০২৩ সালে এসে হয়েছিল ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন। এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ৫ দশমিক ৯ মিলিয়নে দাঁড়াতে পারে।
 
এই এডিস মশা ব্রাজিলের মানুষদের ওপর এত খারাপভাবে প্রভাব ফেলেছে যে, এটি জাতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির শুন্য দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গুর কারণে দেশটির কিছু অংশে স্কুলগুলো থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার প্রায় ৫ শতাংশের বেশি৷

তবে, এ দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। ডেঙ্গু এখন গরমপ্রধান দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে অপেক্ষাকৃত কম গরমের দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত এডিস মশা তাপমাত্রার  কম পরিবর্তনের এমন আবহাওয়ার জন্য সংবেদনশীল। অর্থাৎ এটি পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সাথে সাথে তাদের পরিসরও প্রসারিত করছে। এরই মধ্যে অ্যানোফিলিস, ম্যালেরিয়া ছড়ায় এমন একটি মশার প্রজাতি বিশ্বের অনেক দেশেই বেশ ভালোভাবে গেঁড়ে বসেছে। আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের তৈরি একটি হিসাব এমন তথ্যই দিচ্ছে। মডেলটি অনুসারে, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতা অনুযায়ী এডিস দক্ষিণ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে আরও ২ বিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এছাড়া নগরায়নও ডেঙ্গু ছড়াতে সাহায্য করছে। শহরগুলোতে মানুষের সমাগম বেশি হওয়ায় প্রতিটি মশা তার দুই সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত জীবনকালে আরও বেশি মানুষকে কামড়াতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো ঘন বসতির জায়গায় আগে এই রোগ খুব বেশি বিস্তার না পেলেও, এখন সেসব জায়গায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ ইউরোপ ও আফ্রিকাতেও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে।

এদিকে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বকে অনেক ধরনের জ্বরের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে। না হলে এর ফলে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও উত্তর গোলার্ধ ক্রমবর্ধমান এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া অর্থনীতি নিয়ে সংকটে থাকা দেশগুলোও এই রোগগুলোর কারণে তাদের উৎপাদনক্ষমতা হারাবে উল্লেখযোগ্য হারে। কারণ এই সমস্যা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা দরকার, সেটি সেসব দেশের পক্ষে করা কঠিন। যদিও মশারির ব্যবহার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের একটি সস্তা ও কার্যকর উপায়, তবে এটি ডেঙ্গুর জন্য কাজ করে কম। কারণ এডিস বা অ্যানোফিলিস মশা মানুষকে কামড়ায় দিনের বেলায়।
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরেই ভালোভাবে কাজ করে চলেছে। দেশটি যথেষ্ট ধনী হওয়ায়, তারা তাদের জনস্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করে তাদের দিয়ে মশার উৎস ধ্বংস, আইন প্রয়োগ এবং যথাযথ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে ৷ দেশটির বিভিন্ন শহর ও রাজ্যে কীটনাশক ছেটানোর জন্য বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা আছে। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতেও এই বিশেষ মশা নিধনের বাহিনী রয়েছে। কিন্তু পরিমিত বাজেট ও বিস্তীর্ণ এলাকায় কাজ করার মতো যথেষ্ট জনবল না থাকায় তারা ডেঙ্গুর বংশ বিস্তার রোধে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। এসবের মধ্যে বস্তি হলো এমন এক ধরনের জায়গা, যেখানে সর্বত্র মশার প্রজনন-ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া যায়। তাই অন্য পথ খোঁজাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

২০১৬ সাল থেকে সিঙ্গাপুর আরেকটি উচ্চ প্রযুক্তির ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর সেটি হলো, দেশটিতে প্রতি সপ্তাহে ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রামিত ৫০ লাখ মশা ছাড়া হয়। এই মশা ডেঙ্গু সৃষ্টিকারী ভাইরাস সংক্রমণে বাধা দেয়। আর এই কাজে দেশটির বছরে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, যা জনপ্রতি প্রায় ৬ ডলার করে পড়ে।

এর সাথে যোগ হয়েছে নতুন ভ্যাকসিনের বিষয়টিও। কলম্বিয়ার কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত মশা ছাড়ার পর, সেখানে ডেঙ্গুর ঘটনা ৯৪ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ওলবাকিয়া মশা তৈরির কারখানাটি এই বছর ব্রাজিলের কুরিটিবা শহরে কাজ শুরু করতে চলেছে। তাই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অন্যান্য স্থানেও এই পন্থাটি অনুসরণ করা উচিত। এতে এডিস ইজিপ্টি মশার বিপদ থেকে মুক্তির উপায় পাওয়া যেতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া যাদের মূল কাজ—সেই পুলিশই যখন নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখন প্রশ্ন ওঠে পুরো ব্যবস্থার ওপর। সম্প্রতি খুলনা নগরীতে ঘটে গেছে এমনই এক...
বাংলাদেশ বিমান হাঁটছে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের পথে। বর্তমানে বিমানের বহরে মোট উড়োজাহাজ আছে ১৯টি। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী সব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই...
একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র... যেখানে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবা পাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশুরা। হঠাৎ মধ্যরাতে সেখানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং বুলডোজার দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। রাজধানীর...
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটাই ছিল তাঁর প্রথম সফর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর