ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের পর গাজায় ফিলিস্তিনি হত্যা কি বন্ধ হবে?

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৬ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ২০-দফা শান্তি প্রস্তাবের কিছু অংশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস মেনে নিলেও এই দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধ সমাপ্তির পথে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। হামাসের এই পদক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু আদৌ কি তা হবে? 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পের আহ্বানের পর গাজা সিটিসহ কিছু এলাকায় প্রথমে ইসরায়েলের তীব্র বোমা হামলার খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে বিমান হামলা এবং অন্যান্য গোলাবর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে, যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও পরিষ্কার নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ প্রস্তাবে সম্মত হলেই যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হবে। কিন্তু হামাস তাদের প্রতিক্রিয়ায় সব শর্তে পুরোপুরি সম্মতি না দিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার বিশদ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।

জিম্মি মুক্তির জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা রাখা হলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের জবাবের কয়েক দিন আগেই এতে সম্মত হওয়ায় সেই সময় গণনা কখন শুরু হবে তা স্পষ্ট নয়। জিম্মিদের হস্তান্তর তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মৃতদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দিতে কয়েকদিনের বেশি সময় লাগতে পারে বলে হামাসের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইছেন, যা তিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি’ আনার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, এর আগেও যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবারও অনেক বাধা আছে।

কী সেসব বাধা
ট্রাম্পের পরিকল্পনার একটি প্রধান দাবি এবং ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ। হামাস তাদের প্রতিক্রিয়ায় এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি, যা একটি বড় বাধা। এ ছাড়া ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচী এবং সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা আছে। হামাস ‘পূর্ণ প্রত্যাহারের’ কথা বললেও ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। হামাস গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে রাজি হলেও, ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে (ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন সংস্থা দ্বারা পরিচালিত) তা মানতে তাদের আপত্তি আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়ে আমেরিকার সমর্থন ধরে রাখতে চাইছেন। কিন্তু একই সাথে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য পথে খুব বেশি ছাড় দিতে চান না, যাতে করে তিনি তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোটের সমর্থন না হারান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স অন্যদিকে, হামাস জিম্মি মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তে রাজি হয়েও কিছু বিষয় আলোচনার জন্য খোলা রেখে আলোচনার ভার আরব মধ্যস্থতাকারী দেশ (যেমন কাতার ও মিশর) এবং আমেরিকার কোর্টে ঠেলে দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আমজাদ ইরাকির মতে, হামাসের এই পদক্ষেপ একটি ‘চতুর কৌশল’, যা নেতানিয়াহু এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে।

হার্ভার্ডের বেলফার সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ও ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের সাবেক কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ওরেন সেটার বলেছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি সব পক্ষকে আলোচনায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু এটি প্রক্রিয়ার শুরু, শেষ নয়।

আগামী দিনে মিশরসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করা হবে।

বার্তা সংস্থা এপি বলছে, আলোচনায় কিছু মূল পদক্ষেপের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। হামাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু জিম্মির মরদেহ খুঁজে বের করতে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐকমত্য আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা ওসামা হামদান, আল আরাবি টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, হামাস গাজা উপত্যকায় কোনো বিদেশি প্রশাসনকে মেনে নেবে না এবং বিদেশি বাহিনীর প্রবেশ ‘অগ্রহণযোগ্য’ হবে।

পরিকল্পনার কিছু অংশ স্পষ্ট নয়। হামাস যেখানে ইসরায়েলকে গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে, সেখানে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ইসরায়েল ‘নিরাপত্তা পরিধির উপস্থিতি’ বজায় রাখবে, যার অর্থ হতে পারে তারা গাজার ভেতরে একটি বাফার জোন রাখবে। গাজার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইরানে আবার হামলা হলে বদলে যেতে পারে পুরো যুদ্ধের হিসাব! কারণ, এবার শুধু পাল্টা হামলার হুমকি নয়—ইরান বলছে, এবার এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা এখনো প্রকাশ্যেই আনা হয়নি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের...
সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির কথা ছিল—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। কিন্তু চুক্তি...
বঙ্গোপসাগরের ছোট্ট এক দ্বীপাঞ্চল মহেশখালী। এত দিন যেখানে ছিল মার্কিন কোম্পানির একচ্ছত্র আধিপত্য, সেখানে এবার ভাগ বসাতে ছক কষছে পুতিনের দেশ রাশিয়া। আমেরিকা, রাশিয়া আর মাঝে চীন—বিশ্বের তিন পরাশক্তি...
একটা সকাল। চারটি বিমান। কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল পুরো পৃথিবী। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের আকাশে একটি বিমান আঘাত করল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় বিমান আছড়ে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর