তুরস্ক-পাকিস্তানে আস্থা নেই, ইসরায়েলেই ভরসা সৌদির!

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির কথা ছিল—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। কিন্তু চুক্তি হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সৌদিতে একের পর এক হামলা করে আসছে ইয়েমেনের ইরানপন্থীরা, কিন্তু অবাক করা বিষয় সৌদি আরব সাহায্যের কড়া নাড়ছে ইসরায়েলের দরজায়।

ইরানপন্থীদের হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা ও সামরিক তথ্য পাওয়ার বিষয়ে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা ছিল তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দুই শক্তিশালী মুসলিম দেশের। তাই প্রশ্ন উঠছে—মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পরও সৌদিকে কেন ইসরায়েলের দিকে যেতে হচ্ছে? আর তুরস্ক ও পাকিস্তানই বা সরাসরি মাঠে নামছে না কেন?—এই ভিডিওতে জানাব এর বিস্তারিত।

মক্কা চুক্তিতে আসলে কী আছে?

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। চুক্তির মূল কথা খুব সহজ—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। চুক্তি হয়েছে, কিন্তু এর পুরো সামরিক কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। তিন দেশের মধ্যে কীভাবে সেনা পাঠানো হবে, কী ধরনের সাহায্য দেওয়া হবে, কে কমান্ড করবে—এসব ব্যবস্থাও এখনো গড়ে তোলা হচ্ছে।

আগস্টের শেষ দিকে তিন দেশ চুক্তির অধীনে একটি যৌথ কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে। অর্থাৎ, মক্কা চুক্তি কাগজে আছে, কিন্তু এটিকে কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত করার কাজ এখনো চলছে। আর এই সময়েই সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের ইরানপন্থীদের ব্যাপক হামলা শুরু হয়েছে।

কেন তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদিকে বাঁচাতে আসছে না?

এখানেই মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা বাড়ার পরও পাকিস্তান বা তুরস্ক এখনো ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেনি। পাকিস্তান পরিষ্কারভাবে বলেছে, মক্কা চুক্তির কাঠামো এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা সৌদির পাশে আছে, কিন্তু ইয়েমেনে ইরানপন্থীদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নেই।

মক্কা চুক্তির লক্ষ্য মূলত তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করা। কিন্তু সৌদি যদি ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সেই যুদ্ধে কতটা জড়াতে হবে—এই সিদ্ধান্ত বেশ জটিল। বিশেষ করে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদির নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু একই সময়ে তারা ইয়েমেন সংকটকে কূটনৈতিকভাবে সামলানোর কথাও বলছে। অর্থাৎ, তুরস্ক-পাকিস্তান সৌদিকে ছেড়ে দিয়েছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং সমস্যা হলো, চুক্তিটি এখনো নতুন, আর ইয়েমেনের যুদ্ধের মতো বড় সংঘাতে এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সেটাই এখনো পরিষ্কার নয়।

সৌদির শেষ ভরসা ইসরায়েল?

এখানেই পুরো ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক। সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তারপরও ইয়েমেনের ইরানপন্থীদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি ও ইসরায়েলের মধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ইরানপন্থীদের সামরিক অবস্থান, তাদের গতিবিধি এবং ভবিষ্যৎ হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া।

বর্তমান যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান থাকলেই হয় না। শত্রুর অবস্থান কোথায়, কোথা থেকে ড্রোন উড়ছে, কোন ঘাঁটিতে হামলার প্রস্তুতি চলছে—এসব তথ্য আগে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ঠিক এই জায়গাতেই সৌদির বড় সমস্যা সামনে এসেছে। ইরানপন্থীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় সৌদি ও তাদের মিত্রদের গোয়েন্দা ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। তাই নতুন মক্কা চুক্তির সামরিক কাঠামো পুরোপুরি চালু হওয়ার অপেক্ষা না করে সৌদি এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে দ্রুত সহায়তা খুঁজছে।

এমনকি ইসরায়েল ছাড়াও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, পাকিস্তান ও মিসরের কাছ থেকেও সহায়তা চেয়েছে। অর্থাৎ, এটি শুধু ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করার ঘটনা নয়; বরং সৌদি এখন একাধিক উৎস থেকে দ্রুত প্রতিরক্ষা সহায়তা জোগাড়ের চেষ্টা করছে।

তাহলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ব্যর্থ? এখনই এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় হয়নি। কারণ চুক্তিটি মাত্র আগস্টে হয়েছে এবং এর সামরিক কাঠামো এখনো তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ইরানপন্থীদের সাম্প্রতিক হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে—চুক্তি করা আর সেই চুক্তিকে যুদ্ধের মাঠে কার্যকর করা এক বিষয় নয়।

সৌদি আরবের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—মক্কা চুক্তির তুরস্ক ও পাকিস্তান কতটা দ্রুত এবং কী ধরনের সহায়তা নিয়ে সামনে আসে। আর তার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা নেওয়ার পথই হয়তো রিয়াদের জন্য দ্রুততম বিকল্প। শেষ পর্যন্ত, এই সৌদি এবং ইরানপন্থীদের সংকটই ঠিক করে দিতে পারে—মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা, নাকি সত্যিই তিন দেশের কার্যকর নিরাপত্তা জোট।

‘বাংলার ভেনিস’ খ্যাত বরিশালের সমৃদ্ধি কি তবে হারিয়ে গেল? দেশের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত বিভাগ নাকি এখন বরিশাল? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। নতুন পরিসংখ্যান দেখলে আপনিও বলবেন, আসলেই তো ‘ধান, নদী, খাল—এই...
মাউন্ট এভারেস্ট আর হিমালয়ে যে বরফের রাজ্য আছে, সেটাকে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। ভয়ংকর কথা হলো, এই তৃতীয় মেরু এখন প্রচণ্ড তাপে গলছে। গবেষকরা বলছেন, শুধু বরফ গলাই নয়—হিমালয় এখন এমন এক...
কম্বোডিয়া বা লাওসে টিকতে না পেরে আন্তর্জাতিক এক অনলাইন প্রতারক চক্র ঠিক কীভাবে বাংলাদেশকে তাদের নিরাপদ আস্তানা বানিয়েছিল? আর কক্সবাজারের মেরিনা বিচ ভিলা বা চট্টগ্রামের খুলশীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসে...
মাছ-মাংসের বাজারে তো পা ফেলার উপায় নেই, তাই বলে কি একটু ডিম খেয়ে বেঁচে থাকার উপায়ও থাকবে না? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন লাগার পর সাধারণ মানুষ যখন আমিষের উৎস হিসেবে ডিমের ওপর ভরসা করে, ঠিক...
এআই-নির্ভর গ্লোবাল প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন স্মার্টফোন ‘টেকনো স্পার্ক ৫০সি’। দৈনন্দিন স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির...
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬ জনে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ...
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। বুধবার শুল্ক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর ও ঢাকার দুটি প্রিভেন্টিভ টিম...
শিল্পে ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুৎ বা সোলারের প্রায় সব ধরনের যন্ত্রপাতি আগামী ৬ মাস এক শতাংশ শুল্কে আমদানি করা যাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করতে এ সুবিধা দিয়েছে সরকার। 
লোডিং...

এলাকার খবর