ইরানে আবার হামলা হলে বদলে যেতে পারে পুরো যুদ্ধের হিসাব! কারণ, এবার শুধু পাল্টা হামলার হুমকি নয়—ইরান বলছে, এবার এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা এখনো প্রকাশ্যেই আনা হয়নি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) দাবি, নতুন হামলা হলে শুধু নতুন লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করা হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধিও।
কিন্তু ইরানের হাতে থাকা সেই ‘নতুন অস্ত্র’ আসলে কী? কোথায় ব্যবহার হতে পারে? যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে এই সংঘাত কত দূর ছড়িয়ে পড়বে? আর এই হুমকির পেছনে আসলে কী আছে? আজকের ভিডিওতে জানব এসব প্রশ্নের উত্তর!
ইরানের ‘নতুন অস্ত্রে’ কী আছে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান এখনো প্রকাশ্যে বলেনি—এই নতুন অস্ত্র আসলে কী। আইআরজিসি শুধু জানিয়েছে, নতুন অস্ত্র এবং নতুন লক্ষ্য ব্যবহার করা হবে। তাই এটি আসলে কোন ধরনের অস্ত্র? কোনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন? কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরানের সামরিক বার্তায় একটি বিষয় স্পষ্ট—তারা শুধু আগের যুদ্ধের কৌশলেই থাকতে চায় না। বরং নতুন হামলা হলে নতুন জায়গাকে লক্ষ্য করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিসরও বদলে দেওয়ার কথা বলছে তারা।
এর সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। ইরানের সামরিক কমান্ড বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় তারা পরিবর্তন এনেছে এবং এটিকে তারা নিজেদের সামরিক অবস্থানের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। অর্থাৎ ইরানের হুমকি শুধু আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমুদ্রপথ, সামরিক ঘাঁটি এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থ—সবকিছুকেই এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবার কি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়বে?
ইরানের সামরিক কমান্ড এরই মধ্যে সতর্ক করেছে—যে দেশগুলো নতুন মার্কিন হামলায় নিজেদের ঘাঁটি বা এলাকা ব্যবহার করতে দেবে, তাদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নয়, আমেরিকাকে সহায়তা করা আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধেও জবাবের ইঙ্গিত দিয়েছে। এরই মধ্যে ইয়েমেনে ইরানপন্থীদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর লড়াইও তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব হামলার শিকার হয়েছে, আর অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সরাসরি সাহায্য করার পথ থেকে ফিরে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে। ফলে ইরান যদি সত্যিই যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সংঘাত শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আটকে থাকবে কি না—সেটিই বড় প্রশ্ন।
আবার হামলা করবে আমেরিকা?
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালাবে কি না। তবে পরিস্থিতি যে খুবই উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আছেন এবং সামনে বড় কিছু ঘটতে পারে। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান বলছে, নতুন হামলা হলে এবার জবাবের কোনো সীমা থাকবে না। অর্থাৎ ওয়াশিংটন যেখানে নতুন সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে, তেহরানও সেই সম্ভাবনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত থাকার বার্তা দিচ্ছে।
তবে একই সময়ে কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এসেছেন এবং ট্রাম্পও তাঁর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
একদিকে নতুন হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে বৈঠকের সম্ভাবনা—এই দুয়ের মাঝেই (সংশোধন: দুইয়ের মাঝেই থেকে দুয়ের মাঝেই) এখন আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। তেহরান বলছে, হামলা হলে এবার নতুন অস্ত্র, নতুন লক্ষ্য এবং বদলে যাওয়া যুদ্ধক্ষেত্রের দেখা মিলবে। কিন্তু সেই নতুন অস্ত্র আসলে কী, কতটা শক্তিশালী, কিংবা কোথায় ব্যবহার করা হবে—এখনও তার বিস্তারিত জানায়নি ইরান।
তাই সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটাই—যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আবার হামলা চালায়, ইরানের দেওয়া এই হুমকি কি শুধু সতর্কবার্তা হয়েই থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে সত্যিই নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে যাবে? এর উত্তর এখনো অজানা।



