রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

দলের প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিলে কী হবে?

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় কৌতূহল—সংসদের ভেতরের ভোটগ্রহণটা ঠিক কীভাবে হবে? সাধারণ নির্বাচনের মতো কি গোপন ব্যালট, নাকি অন্য কোনো উপায়ে? আজ আমরা সহজ ভাষায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া জানব।

তফসিল, সময়সূচি ও প্রার্থী তালিকা

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই ভোটগ্রহণ। নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের দক্ষ কর্মকর্তারা নিয়োজিত থাকবেন সংসদ সচিবালয়ের দলের সঙ্গে। এই নির্বাচনে মোট ভোটারসংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য, যার মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনও অন্তর্ভুক্ত। তবে লড়াইটা কিন্তু দ্বিমুখী হতে চলেছে।

একদিকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রার্থী করা হয়েছে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদকে। আর অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কীভাবে দেওয়া হবে ভোট?

এখন আসা যাক মূল প্রশ্নে—সংসদ সদস্যরা কীভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজেদের আসনে বসবেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা প্রত্যেক সংসদ সদস্যের কাছে গিয়ে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। এবারই আসছে সবচেয়ে বড় টুইস্ট। ভোট হতে যাচ্ছে প্রকাশ্য পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, সংসদ সদস্যকে ব্যালট পেপারে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর পাশে নিজের পূর্ণ স্বাক্ষর ও বিভক্তি সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে এবং সরাসরি সেখান থেকেই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটদানের পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি টেলিভিশনে দেখানো হবে।

ভোটিং পদ্ধতি প্রকাশ্যে কেন?

১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটের বিধান ছিল। পরবর্তীতে নানা পরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। একই সাথে চালু হয় এই প্রকাশ্য ভোটিং ব্যবস্থা। সংসদবিষয়ক গবেষকদের মতে, এই আইনের কারণে ব্যালটে প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। এর ফলে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা আর গোপন থাকছে না।

তবে প্রকাশ্যে ভোট হওয়ায় তৈরি হয়েছে এক বড় আইনি প্রশ্ন—কোনো সংসদ সদস্য কি নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন? দিলে কি তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে?

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও মনে করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না। কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেন, তবে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল ঘোষণা করবে।

তবে সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদের মতে—৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে সংসদে উত্থাপিত কোনো প্রস্তাব বা আইন প্রণয়নে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে পদ যাবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদের আইন প্রণয়ন বা স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীর অংশ নয়; এটি সংবিধান ও বিশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন দ্বারা পরিচালিত। তাই এখানে দলের বাইরে ভোট দিলেও এমপি পদ বাতিল হওয়ার আইনি সুযোগ নেই।

সংসদের বর্তমান আসনবিন্যাস অনুযায়ী জয়-পরাজয়ের হিসাবটা কিছুটা অনুমেয় হলেও, এই প্রকাশ্য ভোটিং ও সাংবিধানিক আইনি তর্কের কারণে নির্বাচনটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন, আলোচনা ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি। কীভাবে হবে নির্বাচন? প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী লাগবে? দলীয় প্রতীক কি...
বৃহস্পতিবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মানেই যে জনগণের সরাসরি...
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ফের অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। সবশেষ ১৯৯১ সালে কীভাবে হয়েছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট? এবারই বা ভোট হবে কোন...
কাগজে-কলমে তিনি কেবলই রাষ্ট্রের আলংকারিক প্রধান। সংবিধানে বলা আছে, দেশের শাসনকাজ বা ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। অথচ এই রাষ্ট্রপতির আসনে কাকে বসানো হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার...
পূজার ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসের সাথে ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা হিটলার বিশ্বাস (৩৫) নামের এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার ছয়দিনের মাথায় চাকরি খোয়ালেন হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে প্রথম কয়েক দিনেই যোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর