চলতি বছর এসএসসি পাস করা সোয়া দুই লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়াতেই নেই। কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এসএসসি পাস করার পর প্রতি ৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন হঠাৎ কেন হারিয়ে যায়? এমনকি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশও কলেজে ভর্তি হচ্ছে না। কিন্তু কেন? আজ আমরা জানব এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্যে আসলে ঘটছে কী? তাদের শিক্ষাজীবন কি চিরতরে এখানেই থেমে যাচ্ছে?
সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থী কোথায় গেল?
এ বছর ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে এসএসসি পাস করেছে প্রায় ১১ লাখ ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার জনের বেশি। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো—এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৮৮ হাজার ১১৬ জন ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি। ৪৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেও ভর্তি হতে পারেনি।
শুধু তাই নয়। এ বছর রেকর্ড প্রায় ১২ হাজার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি। কেন এমনটা হলো? ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন, এদের একটা বড় অংশ হয়তো ডিপ্লোমা, নার্সিং বা পলিটেকনিকে ভর্তি হতে পারে।
আগের বছর কী হয়েছিল?
বিষয়টা কি নতুন? মোটেও না। গত বছরগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালে প্রায় পৌনে ৩ লাখ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে ছিল। শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলছেন অন্য কথা। তাঁর মতে, এই বিশাল অংশের একটা বড় কারণ হতে পারে—আর্থিক সংকট ও দারিদ্র্য, পারিবারিক চাপ, বাল্যবিবাহ এবং কর্মসংস্থানের জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানও মনে করেন, পাস করার পরও কলেজে ভর্তি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে।
আশার কোনো আলো আছে?
তবে আশার কথা হলো, যারা এখনো কোনো সুযোগ পাননি বা আবেদন করতে পারেননি, তাদের জন্য শেষবারের মতো দরজা খুলে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত ছিল দ্বিতীয় দফার অনলাইন আবেদন করার সুযোগ। এই ধাপে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশিত হবে ১ অক্টোবর রাত আটটায় এবং ফলাফল প্রকাশের পর থেকে ৩ অক্টোবর রাত আটটার মধ্যে অবশ্যই ভর্তি নির্বাচন নিশ্চয়ন করতে হবে। সময়সীমা পার হলে কিন্তু সুযোগ একেবারে শেষ।
দেশে একাদশ শ্রেণিতে লাখ লাখ আসন ফাঁকা থাকার পরও এভাবে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ আটকে থাকা বা হারিয়ে যাওয়া আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের উচিত সঠিক ডেটা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা এবং এর পেছনের আসল কারণগুলো খুঁজে বের করা।



