দীর্ঘ দুই মাসের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার পর জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের এবি (অ্যাবল সি ম্যান) মোহাম্মদ আনারুল হক রাজু বাবা মায়ের বুকে ফিরেছেন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামে আজিজুল হক মাস্টারের বাড়িতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় দিকে একটি মাইক্রোবাসে পৌঁছান পরিবারের ছোট ছেলে আনোয়ারুল হক রাজু।
এ সময় সন্তানকে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন রাজুর মা দৌলত আরা বেগম ও বাবা আজিজুল হক মাস্টার। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অনেকের চোখেই তখন আনন্দ অশ্রু দেখা যায়। রাজুকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন তাঁর সহপাঠী, আত্মীয়–স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
বাবা–মায়ের কাছে ফিরতে পেরে রাজুর চোখেও আনন্দ অশ্রু। সেই বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেন রাজু। তিনি বলেন, ‘জলদস্যুরা সব সময় আমাদের অস্ত্রের মুখে রাখত। সব সময় পরিবারের কাছে ফেরার স্বপ্ন ছিল। এত দ্রুত কোনো জাহাজ জিম্মি থেকে মুক্তি পায়নি। এ জন্য কোম্পানি এবং সরকারের আন্তরিক ছিল বলেই নাবিকেরা দ্রুত বাড়িতে ফিরতে পেরেছে।’
রাজুর বাবা আজিজুল হক মাস্টার বলেন, ‘রাজু বাড়িতে এসে ইদ করার কথা ছিল। ইদের সময় আমরা ইদ করতে পারি নাই। আজ আমাদের ইদ। নামাজ পড়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ছেলে নতুন পাকা ঘর করছে। এবার ছেলেকে বিয়ে করাব। শিপিং কোম্পানি ও বর্তমান সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল বলেই এত দ্রুত সম্ভব হয়েছে।’
উল্লেখ্য, কার্গো নিয়ে আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ দুপুরে এমভি আবদুল্লাহকে জিম্মি করে সোমালিয়ান দস্যুরা। অস্ত্রের মুখে দস্যুরা সেখানে থাকা ২৩ নাবিককে একটি কেবিনে আটকে রাখে। আটকের পর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিম্মিকালীন মালিকপক্ষের তৎপরতায় সমঝোতা হয় জলদস্যুদের সঙ্গে।
১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটের দিকে এমভি আবদুল্লাহ থেকে দস্যুরা নেমে যায়। এর আগে একই দিন বিকেলে দস্যুরা তাদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ বুঝে নেয়। একটি বিশেষ উড়োজাহাজে মুক্তিপণ বাবদ ৩ ব্যাগ ডলার এমভি আবদুল্লাহর পাশে সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়। স্পিড বোট দিয়ে দস্যুরা ব্যাগ ৩টি কুড়িয়ে নেয়।
দস্যুমুক্ত হয়ে ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে সোমালিয়ার উপকূল থেকে আরব আমিরাতের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ। ২১ এপ্রিল এমভি আবদুল্লাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়াহ পৌঁছে। সেখানে কার্গো খালাস করে জাহাজটি একই দেশের মিনা সাকার থেকে কার্গো লোড করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
আরও পড়ুন:
- অডিওবার্তায় নাবিক–‘সাহরির জন্য সামান্য খাবার দিয়েছে’
- গারাকাড উপকূলের আরও কাছে ছিনতাই হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ
- জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজের অবস্থান শনাক্ত
- নোয়াখালীর সালেহ আহমদকে ফেরত চায় পরিবার
- জলদস্যুদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ হয়নি: বিএমএমওএ
- নাবিক সাইদুজ্জামানের মায়ের নির্ঘুম চোখে শুধুই সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি
- জলদস্যুদের হাতে বন্দি তারেকুল মা-বাবার আহাজারি
- একমাস আগে বাবা মারা যায় নাবিক আইয়ুবের, ছেলের চিন্তায় মায়ের আর্তনাদ



