রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিকে ঘষামাজা করে চলছে আবারও চালুর প্রস্তুতি। তবে সংস্কারের কোনো অনুমতি ছাড়া এ ধরনের সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ বেআইনি বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় সংস্থাটি।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। রাত ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে লাগে ভয়াবহ আগুন। ভবনটির নিচতলায় চুমুক নামের কফিশপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত।
আটতলা ভবনটির পঞ্চম তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও সবগুলো ফ্লোরই রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সিঁড়ি ও বিভিন্ন তলায় রাখা ছিল এসব রেস্তোরাঁর গ্যাস সিলিন্ডারগুলো। পুরো ভবনে ছিলো না কোনো জরুরি বহির্গমন পথ। সেইসাথে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন এবং অগ্নিনির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ভয়াবহ সেই আগুনে মৃত্যু হয় ৪৬ জনের।
ঘটনার পর ভবনের ও রেস্তোরাঁর মালিকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ভবনটিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে গত মাস তিনেক ধরে চলছে ভবনটি আবারো চালুর প্রস্তুতি। এরইমধ্যে বাইরের দিকে রঙের কাজ শেষ। ভেতরে চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ২৭ জন মালিক যার যার অংশের সংস্কারকাজ করছেন।
টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা ভবনটির ভেতরে শ্রমিকদের কাজ চলছে এমনভাবে, যাতে বাইরে থেকে খুব একটা নজরে না আসে।
ভবনটিতে অগ্নিঝুঁকিসহ অন্যান্য ব্ষিয় মাথায় রেখে সংস্কার করা হচ্ছে কিনা জানতে কথা বলতে চাইলে রাজি হননি মালিকদের কেউই। উল্টা এ বিষয়ে খোঁজখবরের কারণ কি সেই প্রশ্ন তুলে মোবাইল ফোনে উষ্মা প্রকাশ করেন ভবনটির মালিক সমিতির সভাপতি ডাক্তার আলিম খান। পরে বিস্তারিত কথা বলার আশ্বাস দিলেও আর ফোন ধরেননি তিনি। কৌশলে এড়িয়ে যান সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার রেজাও।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানায়, বিষয়টি নির্ভর করছে আদালত ও রাজউকের সিদ্ধান্তের ওপর।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, প্রয়োজনীয় সব আলামত ভবন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতে জমাও দেওয়া হয়েছে। কাজেই এই ভবনের সঙ্গে সিআইডির আর কোনো সংশ্লেষ নেই। ভবন নিয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে রাজউক বা কর্তৃপক্ষ।
ভবনটির একজন কর্মী বুয়েট থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট মিলেছে বলে দাবি করলেও কোনো মতামত নেয়া হয়নি বলে জানায় রাজউক। সংস্কার কাজেরও কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহীনুর আলম বলেন, এতো বড় অগ্নিকাণ্ডের পর এই ভবনের ফিটনেস আছে কিনা সে বিষয়ে জানতে মালিকদের পক্ষ থেকে কোন আবেদনই করা হয়নি। কাজেই এই ভবনে সংস্কারের জন্য কোনো অনুমতিও দেয়নি রাজউক। অনুমতি ছাড়া সংস্কারের যেকোনো উদ্যোগ সম্পূর্ণ বেআইনি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটি সংস্কারের মত অবস্থায় আছে কি না তার সব দিক অবশ্যই যাচাই করতে হবে। অনুমোদন ছাড়া নতুন করে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও যেতে পারবে না, মালিকরা, বলছে রাজউক।



