দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হলো দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত একটি হিন্দু উৎসব। এবার দেবী দুর্গাকে বরণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূর্গাপূজার মণ্ডপ ইলিশ মাছ, জাল, জেলে, জেলে কারাগার ও সাম্পান নৌকায় সজ্জিত হলো ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। ব্যতিক্রমী এমন পূজামণ্ডপ দেখা গেল চাঁদপুরের পুরানবাজার এলাকার দাসপাড়া সর্বজনীন কালী মন্দিরে।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর পূজার আরাধনার পাশাপাশি একটি সামাজিক বার্তা দিয়ে আসছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীর এক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিপুন কারুকাজে সজ্জিত এই পূজামণ্ডপটি।
মা আসছেন জীবনের বার্তা নিয়ে; নদী বাঁচুক, ইলিশ ফিরুক ঘরে; জাটকা ধরা বন্ধ হলে, ইলিশ উঠবে জালভরে- এমন প্রতিপাদ্যকে নিয়ে উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা বিলিয়ে দিচ্ছে দাসপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামকরণে ব্যাতিক্রমী দূর্গাপূজার মণ্ডপটি সাজিয়ে নজর কেড়েছে ভক্তবৃন্দের।
নানা রঙ্গের বাতি ও ডেকোরেটরের কাজে পূজামণ্ডপটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কটশিট দিয়ে তিন সাইজের সাত শ ইলিশ, জেলে, জাটকা ইলিশ, মা ইলিশ, কারাগারে অপরাধী জেলে, সাম্পান নৌকা দিয়ে জেলেদের মাছ ধরা, নদী, জাল, ক্রেতার ইলিশ মাছ কেনা-বেচা, ইলিশ চত্ত্বরসহ ফুটিয়ে তোলা প্রাকৃতিক নানান দিক। ইলিশময় পুরো এই সাজসজ্জাময় মণ্ডপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। আগেও এই মণ্ডপে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষ নিধন ও পাখি রক্ষা নিয়ে পূজার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তা দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কথা হয় মণ্ডপের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, এ পূজামণ্ডপটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ১৭ বছর ধরে। নদীমাতৃক এই চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষা করতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে এবার এই মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে। আগামীতে সামাজিক সচেতনতার জন্য আরও ভালো কিছু বার্তা দিতে চান মন্দির কমিটি।
এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন পূজা মণ্ডপটি পরিদর্শনে গিয়ে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই বার্তা পুরো দেশের জন্য। ইলিশ রক্ষা করতে হবে। এমন বার্তা দেওয়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।’



